ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক গর্ডনের
ছবি: সংগৃহীত
১০:১৩ এএম | ১৭ জুলাই, ২০২৬
সব ধরনের পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন স্কটল্যান্ডের কিংবদন্তি গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন। বৃহস্পতিবার ৪৩ বছর বয়সী এই তারকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন ভিডিও বার্তার সাহায্যে তার দীর্ঘ ২৪ বছরের বর্ণাঢ্য খেলোয়াড়ি জীবনের সমাপ্তি টানেন।
হার্ট অব মিডলোথিয়ানের অনূর্ধ্ব দল থেকে উঠে আসা গর্ডনের পেশাদার অভিষেক ঘটেছিল ২০০১ সালে, কাউডেনবিথে ধারে খেলার সময়। শৈশবের প্রিয় ক্লাব হার্টসের হয়ে মাঠ কাঁপানোর পর ২০০৭ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ রেকর্ড ৯ মিলিয়ন পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব সান্ডারল্যান্ডে যোগ দিয়ে বিশ্ব ফুটবলের নজর কাড়েন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে স্কটিশ জায়ান্ট সেল্টিকে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল সময় পার করেন। সেখানে ছয় বছরের মেয়াদে পাঁচটি স্কটিশ প্রিমিয়ারশিপসহ মোট ১২টি ঘরোয়া ট্রফি জেতেন তিনি। ২০২০ সালে তিনি পুনরায় নিজের প্রিয় ক্লাব হার্টসে ফিরে আসেন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বারবার গুরুতর ইনজুরির কবলে পড়লেও প্রতিবারই দোর্দণ্ড প্রতাপে মাঠে ফিরেছেন গর্ডন। ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হওয়া এই গোলরক্ষক স্কটল্যান্ডের হয়ে মোট ৮৪টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড দলের সবচেয়ে প্রবীণতম সদস্য হিসেবে স্কোয়াডে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। যদিও মূল আসরে ফার্স্ট চয়েস গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানের ব্যাকআপ হিসেবে থাকায় মাঠে নামার সুযোগ পাননি। গত মে মাসে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচটিই ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে গর্ডনের শেষ ম্যাচ।

অবসরের ঘোষণা দিয়ে গর্ডন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘‘প্রত্যেক মানুষেরই স্বপ্ন থাকে। আমার স্বপ্নও ছিল আমার প্রিয় ক্লাব হার্টস ও দেশের হয়ে মাঠে নামা। কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে আমি সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছি।’’
রসিকতার সুরে তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘আমি খুব ভালো গায়ক নই, তবে জাতীয় সংগীত ৮৪ বার গাওয়ার পর গায়কী কিছুটা উন্নত হয়েছে। আমি কখনোই চাইনি এই যাত্রা শেষ হোক, কিন্তু একসময় তো শেষ হতেই হয়। আমি আমার স্বপ্নগুলোর মাঝে বেঁচেছি এবং সেজন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’’
ক্রেইগ গর্ডনের বিদায়ের মাধ্যমে স্কটিশ ফুটবলে এক সোনালী অধ্যায়ের অবসান ঘটলো।
আরআই/এসএন