২০ বছর কনডেম সেলে থাকার পর ‘মুক্তি’ পেলেন জাহিদ
ফাইল ছবি
স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে হত্যার দায়ে টানা ২০ বছর কনডেম সেলে থাকার পর এক ব্যক্তিকে খালাসের আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তার নাম শেখ জাহিদ। তিনি বাগেরহাটের বাসিন্দা।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এক রায়ে জানান, স্ত্রী ও কন্যা হত্যার অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারার কারণে খালাস দেয়া হলো শেখ জাহিদকে।
জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে বাগেরহাটের ফকিরহাট থানার রহিমা ও তার দেড় বছরে কন্যা সন্তান ঘুমন্ত অবস্থায় খুন হন। পারিবারিক কলহের অভিযোগে ঐদিনই মামলা হয়। এ মামলায় ২০০০ সালের জুন মাসে স্বামী শেখ জাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেন বাগেরহাট দায়রা জজ আদালত। সেই থেকে কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে ঠাঁই হয় শেখ জাহিদের।
এরপর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য আসে হাইকোর্টে। ২০০৪ সালের জুলাইতে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টে এক রায়ে জানান, শেখ জাহিদই তার স্ত্রী ও সন্তানকে খুন করেছে। পরবর্তীতে মামলাটি আপিল বিভাগে যায় ২০০৭ সালে।
গেল সপ্তাহে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে মামলাটি নজরে পড়ে। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয় সর্বোচ্চ আদালত। নিযুক্ত করা হয় শেখ জাহিদের আইনজীবী।
কিন্তু মামলার শুনানি করতে গিয়ে আপিল বিভাগ দেখেন নানা অসঙ্গতি। মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হন ৮ জন। এমনকি হত্যার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টিও প্রমাণ করতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। আর তাই জাহিদকে খালাস দেন সর্বোচ্চ আদালত।
এমন খালাস পাওয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীও।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি বলেছেন, একজনের জীবন থেকে কনডেম সেলে ২০ বছর হারিয়ে যাওয়া কষ্টের। যারা জড়িত তাদের সাজা হওয়া উচিত।
আপিল বিভাগ তার রায়ে দ্রুত শেখ জাহিদের মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার রায়ের অনুলিপি পাঠানো হবে কারাগারে।
টাইমস/এইচইউ