যারা যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী মোদি
ছবি: সংগৃহীত
০২:৩৯ এএম | ২৪ জুলাই, ২০২৬
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে ফাস্ট-ট্র্যাক (দ্রুত বিচার) আদালত স্থাপন এবং একটি নতুন আইন প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ঘটনায় জড়িতদের কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যারা দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি কোনো ছোটখাটো ব্যাপার নয়; এটি লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের চরম দুর্ভোগে ফেলে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত আড়াই মাসে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নরেন্দ্র মোদী আরও জানান, দ্রুত বিচার আদালত স্থাপন ও কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে, যা মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হবে। আগামী সোমবার থেকে সংসদের অধিবেশনের দ্বিতীয় সপ্তাহ শুরু হতেই বিলটি পাসের চেষ্টা করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ যেন নষ্ট না হয়, সেটিকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। স্বল্পতম সময়ে ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা সম্পন্ন করে সম্প্রতি ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। তবে শুধু এতেই সন্তুষ্ট না থেকে অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, 'আমাদের যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই।'
প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। তারা এই পদক্ষেপকে শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের সংবেদনশীলতা ও অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আইন ও বিচারমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল জানান, বোম্বে, দিল্লি, কলকাতা ও মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে চলমান NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মামলাগুলোর দৈনন্দিন শুনানির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত তৈরি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই ঘোষণার সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলীয় নেতারা। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মূল দাবি না মানায় বিরোধী দলগুলোর সমর্থনে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভঅব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এমআই/টিএ