© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করে ২০ টাকা দিয়ে বাড়ি পাঠালেন প্রধান শিক্ষক

শেয়ার করুন:
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করে ২০ টাকা দিয়ে বাড়ি পাঠালেন প্রধান শিক্ষক

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:১৯ এএম | ২৪ জুলাই, ২০২৬
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নিজ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় মো.মহিউদ্দিন (৫৫) নামে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপার চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে মো.বাচ্চু (৫০) নামে সাবেক এক ইউপি সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত মহিউদ্দিন উপজেলার হাসাননগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও টবগী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছেলামত মাঝির ছেলে। এবং বাচ্চু হাসাননগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও মো.রফিকের ছেলে।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পৃথক পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে,এদিন সকালে ভুক্তভোগী শিশুর দাদা বাদী হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিনকে প্রধান আসামি ও বাচ্চুকে দ্বিতীয় নম্বর আসামি করে বোরহানউদ্দিন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেন। 

পুলিশ,মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়,ভুক্তভোগী শিশু উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের হাসাননগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। গত ১৬ জুলাই দুপুরে স্কুল ছুটির পর অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মতো তিনিও বাড়ি ফেরার পথে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.মহিউদ্দিন তাকে কৌশলে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলায় একটি নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। এবং ঘটনাটি পরিবারকে না জানাতে প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দিয়ে হাতে ২০ টাকা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। 

এরপর শিশুটি বাড়ি ফিরলে তার স্বজনরা অস্বাভাবিক হাঁটাচলা দেখে তাকে জিজ্ঞেস করলে জানায় যে, স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাকে ধর্ষণ করেছে। স্বজনরা প্রথমে বিষয়টি স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চুকে জানালে তিনি সমাধান করবেন বলে আশ্বস্ত করেন,এবং একপর্যায়ে গতকাল রাতে তিনি তাদের বাড়িতে গিয়ে ১০ হাজার টাকায় ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন,ভুক্তভোগীর স্বজনরা এতে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে মারধর করেন বাচ্চু মেম্বার ও তার লোকজন।

ভুক্তভোগী বলেন, স্কুল ছুটির পর মহিউদ্দিন স্যার তৃতীয় তলায় আমাকে ডেকে নিয়ে টেবিলের উপর শোয়ায়ে আমার পরনের প্যান্ট খুলে খারাপ কাজ করছে। আমি চিৎকার দেওয়ার সময় স্যারে আমার মুখ চেপে ধরছে। পরে আমাকে বাড়িতে চলে যেতে বলেছে,এবং আমার হাতে ২০ টাকা দিয়ে বলেছে যদি কাউকে এ ঘটনা বলি তাহলে আমারে মাইররা ফালাইবো। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মনিরুজ্জামান বলেন,গ্রেপ্তারকৃত মহিউদ্দিন ধর্ষণ মামলাটির প্রধান আসামি। অন্যদিকে বাচ্চু মামলার সহযোগী আসামি,সে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন রফাদফা করার চেষ্টা করছিল। বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এ মামলার পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন