যুক্তরাষ্ট্রের ১১ যুদ্ধবিমান-হেলিকপ্টার ধ্বংসের দাবি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত
১১:৩৬ এএম | ২৬ জুলাই, ২০২৬
ইরান শনিবার দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে। দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক ১৫ দিনের সংঘাতে এমন সাফল্য পায় ইরান। আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থাকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রি. জে. হোসেইন মোহেব্বি বলেন, গত ৮ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে এসব হামলা চালানো হয়।
তিনি দাবি করেন, ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে ছিল ১৭টি নজরদারি ও অপারেশনাল ড্রোন, যার মধ্যে আটটি ছিল ‘একেবারে নতুন’; একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান; একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান; একটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান; এবং আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান।
মোহেব্বি বলেন, এসব বিমান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে মাটিতে অবস্থানরত অবস্থায় ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তিনি এসব ঘাঁটির অবস্থান নির্দিষ্ট করে জানাননি।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের হামলায় নয়টি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল কেন্দ্র, পাঁচটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, ছয়টি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, তিনটি আকাশ ও নৌ নজরদারি রাডার, আটটি গোয়েন্দা ও আগাম সতর্কীকরণ রাডার, সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, পাঁচটি ইলেকট্রনিক পজিশনিং সিস্টেম রাডার—যার মধ্যে দুটি ছিল দীর্ঘপাল্লার—এছাড়া আরও পাঁচটি দীর্ঘপাল্লার রাডার, দুটি আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, একটি ট্যাকটিক্যাল রাডার কমপ্লেক্স, ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র হ্যাঙ্গার, ১৭টি অস্ত্রভাণ্ডার, ১২টি জ্বালানি ট্যাংক, তিনটি লজিস্টিকস কেন্দ্র, ছয়টি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম, চারটি হাইমার্স রকেট লঞ্চার প্ল্যাটফর্ম, একটি জ্বালানি জেটি, একটি চালকবিহীন ভূপৃষ্ঠীয় নৌযান সংরক্ষণাগার, একটি গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র, চারটি যুদ্ধবিমান হ্যাঙ্গার, চারটি হেলিকপ্টার এবং ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইআরজিসির এই মুখপাত্র আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করার পর ইরানের হামলায় ২০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত হতাহতের পরিসংখ্যানকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলেও উড়িয়ে দেন।
এমআর/টিএ