© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ফিলিস্তিনের সেই কিশোরীকে স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন ভিডিওবার্তা

শেয়ার করুন:
ফিলিস্তিনের সেই কিশোরীকে স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন ভিডিওবার্তা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৫৩ পিএম | ২৭ জুলাই, ২০২৬
গাজায় ইসরায়েলের বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের দেয়ালে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের ম্যুরাল এঁকেছেন ফিলিস্তিনের এক কিশোরী। সেই ম্যুরাল নিয়ে নির্মিত কিশোরীর ভিডিওবার্তা পৌঁছে যায় স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে। সেই ভিডিও দেখে লিয়ান ও ফিলিস্তিনের জন্য বিশেষ ভিডিওবার্তা দিয়েছেন সানচেজ।

প্যালেস্টাইন ক্রনিকলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার লিয়ান আল-কাওকা নামের এক কিশোরী সানচেজের ম্যুরালের পাশে দাঁড়িয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। আরবি ও স্প্যানিশ—উভয় ভাষায় দর্শকদের উদ্দেশ্যে লিয়ান জানায় , শিল্পকর্মটি কেবল একটি সাধারণ ছবি নয়।

তার ভাষায়, ‘এটি কেবল একটি সাধারণ দেয়ালচিত্র নয়। আমরা সবাই এতে অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। কারণ আমরা চেয়েছিলাম আমাদের বার্তা যেন স্পেনের জনগণের কাছে পৌঁছায়।’

লিয়ান আরও বলেছে, স্পেন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে ‘তাদের মানবিক অবস্থানের জন্য’ ধন্যবাদ জানাতে এই ম্যুরালটি ‘ভালোবাসা’ দিয়ে আঁকা হয়েছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্পেনের জয় উদযাপন করে লিয়ান বলে, গাজাবাসী স্প্যানিশ জনগণকে ‘গাজার হৃদয়ে থাকা আকুলতা’ থেকে অভিনন্দন জানাতে চায়।

‘আমরা আশা করি, এই ম্যুরালটি স্পেনের প্রতিটি ঘরে পৌঁছাবে। কারণ এটি ভালোবাসা, আশা এবং কৃতজ্ঞতা নিয়ে আঁকা হয়েছে’-যোগ করেন লিয়ান।

ফিলিস্তিনি কিশোরীর ভিডিওবার্তা প্রকাশের পর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সানচেজ এর জবাব দিয়েছেন। নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী লিয়ানকে সম্বোধন করে বলেন, ‘ধন্যবাদ লিয়ান। এই সুন্দর ভালোবাসার জন্য শিল্পীদেরও ধন্যবাদ।’

পাশাপাশি তিনি সেই ফিলিস্তিনিদেরও ধন্যবাদ জানান, ‘যারা এত কষ্টের মধ্যেও আমাদের জন্য কিছুটা ভালোবাসা পাঠানোর সময় পেয়েছেন’। গাজার শিশু ও পরিবারগুলোর উদ্দেশে সানচেজ আরও বলেন, ‘পুরো স্প্যানিশ সমাজ আপনাদের কথা শুনছে, আপনাদের দেখছে এবং আপনাদের কথা ভাবছে।’



তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, খুব শিগগিরই এমন এক দিন আসবে যখন গাজার শিশুরা কোনও ভয় ছাড়াই আবার তাদের স্কুলে ছবি আঁকতে পারবে এবং শান্তিতে বড় হতে পারবে।

ভিডিওর শেষে সানচেজ বলেন, ‘স্পেনের পক্ষ থেকে (ফিলিস্তিনকে) অনেক ভালোবাসা ও উষ্ণ আলিঙ্গন’।

সানচেজের বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে কিশোরী লিয়ান। পরবর্তীতে সে আরেকটি ভিডিও রেকর্ড করে। লিয়ান সেই ভিডিওতে বলে, ‘প্রথমবারের মতো কোনও দেশের প্রধানমন্ত্রী গাজার কোনও শিশুর কথার উত্তর দিলেন। যখন আপনার মুখে আমার নাম ‘লিয়ান’ শুনলাম, আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।’

স্পেন, দেশটির জনগণ এবং সানচেজকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে সে আরও যোগ করে, ‘যদিও আমরা একই ভাষায় কথা বলি না, তবুও আমাদের হৃদয় একই সমবেদনায় স্পন্দিত হয়।’ ছোট্ট এই ফিলিস্তিনি কন্যা গাজাকে সমর্থনকারী প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলে, ‘আপনাদের সবার জন্য আমাদের ভালোবাসা।’

বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশের নেতারা যখন ফিলিস্তিন ইস্যুতে ‘কূটনৈতিক ভাষায়’ বার্তা প্রদান করেন, তখন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ একেবারেই ব্যতিক্রম। গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন তিনি। গাজা গণহত্যা ইস্যুতে ইউরোপীয় নেতাদের নীরবতার সমালোচনা করে সানচেজ বলেছেন, ‘এটি একটি ব্যর্থতা। সম্পূর্ণ ব্যর্থতা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এমন কিছু দেশ রয়েছে, যারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ইস্যুতে বিভক্ত।’

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন