© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘চলো, তোমার বাসায় যাব’, পুলিশ পরিচয় দিয়ে ইউপি সচিবকে ডাকাতদল

শেয়ার করুন:
‘চলো, তোমার বাসায় যাব’, পুলিশ পরিচয় দিয়ে ইউপি সচিবকে ডাকাতদল

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৪২ পিএম | ২৭ জুলাই, ২০২৬
কক্সবাজারের পেকুয়ায় পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার (সচিব) বাড়িতে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পরিবারের সদস্যদের। পরে প্রায় ১৬ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ৩টি মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।

রোববার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত তিনটার দিকে পেকুয়া উপজেলার আব্দুল হামিদ সিকদারপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনার ভুক্তভোগী রেজাউল করিম। তিনি মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। ঘটনার দিন রাতে তিনি বাড়ির বাইরে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় গাড়িতে করে কয়েকজন লোক এসে পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে বলেন, ‘চলো, তোমার বাসায় যাব।’

ভুক্তভোগী রেজাউল করিমের জানান, তিনি কয়েকজন প্রতিবেশীকে সাথে নিয়ে রাত একটার দিকে বাড়ির পাশে একটি মুদিদোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় একটি গাড়িতে করে ছয়জনের এক দল লোক সেখানে এসে নামেন। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে রেজাউল করিম ও তার তিন প্রতিবেশীর মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেন। এরপর পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁরা রেজাউল করিমকে নিয়ে তার বাসায় যান।

রেজাউল করিম আরও জানান, রাত আনুমানিক তিনটার দিকে পুলিশ পরিচয়েই তারা রেজাউল করিমকে তার বাড়ি দেখিয়ে দিতে বলেন। তিনি সরল বিশ্বাসে তাদের পুলিশ ভেবে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু বাড়ির মূল ফটকে ঢোকার পরপরই ডাকাতরা তার ঘাড়ে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে জিম্মি করে। এ সময় তাদের সবার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র ছিল। তাঁরা পরিবারের নারী ও শিশুদেরও জিম্মি করে ফেলে।
তিনি আরও বলেন, প্রথমে ডাকাতরা আমার প্রবাসী বড় ভাই জমির আলমের ঘরে ঢোকে। সেখানে তার স্ত্রীকে মারধর করে পরনের সব স্বর্ণালংকার কেড়ে নেয়। পরে আলমারির তালা ভেঙে সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুটে নেয়।

রেজাউল করিম আরও বলেন, এরপর তারা আমার কক্ষে ঢুকে আমার স্ত্রীর গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আলমারি ভেঙে প্রায় সাড়ে ৮ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আমি প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকেও মারধর করে। পরে বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে আমাদের ঘরের ভেতরে আটকে রেখে পালিয়ে যান তারা।’

‎‎পেকুয়া থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন