© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হিন্দু থেকে খ্রিস্টান, পরে ইসলাম: রাখির জীবনের নানা মোড়

শেয়ার করুন:
হিন্দু থেকে খ্রিস্টান, পরে ইসলাম: রাখির জীবনের নানা মোড়

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৩৮ পিএম | ২৮ জুলাই, ২০২৬
ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, বিয়ে এবং ধর্ম পরিবর্তন- সব মিলিয়ে বরাবরই আলোচনায় থেকেছেন বলিউডের বিতর্কিত অভিনেত্রী ও বাস্তবধর্মী অনুষ্ঠানের পরিচিত মুখ রাখি সাওয়ান্ত। হিন্দু পরিবারে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী জীবনের বিভিন্ন সময়ে খ্রিস্টধর্ম ও পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তবে বর্তমানে তিনি কোন ধর্ম অনুসরণ করছেন, সে বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি।

রাখি সাওয়ান্তের আসল নাম নিরু ভেড়া। ১৯৭৮ সালের ২৫ নভেম্বর ভারতের মুম্বাইয়ে একটি সাধারণ মারাঠি হিন্দু পরিবারে জন্ম তাঁর। বাবার মৃত্যুর পর পরিবার আর্থিক সংকটে পড়লে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ব্যাকগ্রাউন্ড নৃত্যশিল্পী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের পর সৎ বাবার পদবি গ্রহণ করে ‘রাখি সাওয়ান্ত’ নামেই পরিচিতি পান। ধীরে ধীরে বলিউডে আইটেম গানের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং ‘ম্যায় হুঁ না’ ও ‘মাস্তি’সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন।

২০০৯ সালের দিকে রাখি ও তাঁর মা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি খ্রিস্টান পরিচয়েই ছিলেন এবং একই সঙ্গে চলচ্চিত্র ও বিভিন্ন বাস্তবধর্মী অনুষ্ঠানে কাজ চালিয়ে যান।



২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ভারতীয় রিতেশ সিং- কে গোপনে বিয়ে করার দাবি করেন রাখি। দীর্ঘদিন এই বিয়ে নিয়ে নানা বিতর্ক চললেও পরে বাস্তবধর্মী অনুষ্ঠান ‘বিগ বস’-এ প্রথমবার রিতেশকে প্রকাশ্যে দেখা যায়। তবে তাঁর আগের বিয়ে নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে ২০২২ সালের শুরুতেই তাঁদের দাম্পত্যের ইতি ঘটে।

বিচ্ছেদের পর মহীশূরের বাসিন্দা আদিল খান দুররানি–এর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান রাখি। তাঁকে বিয়ে করার আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘ফাতিমা’ রাখেন। ২০২২ সালের জুনে তাঁদের বিয়ে হলেও বিষয়টি কয়েক মাস গোপন রাখা হয়। পরে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিকাহর ছবি প্রকাশ করে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাখি। যদিও শুরুতে আদিল এই বিয়ের কথা অস্বীকার করেছিলেন, পরে তা স্বীকার করেন।



তবে বিয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। রাখির অভিযোগ, আদিল তাঁর কাছে নিজের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য গোপন করেছিলেন। পরে তিনি আদিলের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য সহিংসতা, প্রতারণা, পরকীয়া, অর্থ আত্মসাৎ এবং তাঁর অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আদিলকে গ্রেপ্তারও করা হয়। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের শেষ দিকে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে উভয় পক্ষের দায়ের করা মামলাগুলো খারিজ করে দেয় আদালত।

রাখি আরও দাবি করেছিলেন, জন্মসূত্রে তিনি হিন্দু হওয়ায় আদিলের পরিবার তাঁদের বিয়ে সহজভাবে মেনে নেয়নি। যদিও এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও সামনে এসেছে।

২০২৬ সাল পর্যন্ত রাখি সাওয়ান্ত প্রকাশ্যে জানাননি, বর্তমানে তিনি কোন ধর্ম অনুসরণ করছেন। ইসলাম ধর্মে রয়েছেন, নাকি আবার খ্রিস্টধর্ম বা হিন্দুধর্মে ফিরে গেছেন- এ বিষয়ে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাখি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে ভালোবাসা থাকা উচিত। তিনি জানান, পাকিস্তানেও তাঁর অনেক ভক্ত রয়েছেন। একই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, তাঁর সম্ভাব্য পাত্র দোদি খান একজন অভিনেতা ও পুলিশ কর্মকর্তা।

এসএ/টিএ

মন্তব্য করুন