হাইকোর্টে পরিবারের অভিযোগবাংলা বলায় ভারতীয় মুসলিম নারীকে ঠেলে পাঠানো হলো বাংলাদেশে
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৫৫ পিএম | ২৮ জুলাই, ২০২৬
বাংলায় ভাষায় কথা বলা মুসলিম। তাই বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে জোরপূর্বক ভারতীয় নারীকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশে। অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানোর এমন অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর নাম সাইদা ফকির। তিনি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর ব্লকের গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বিগত ২০ বছর ধরে সাইদা ফকির তার স্বামী জুম্মান ফকিরের সঙ্গে মুম্বাইতে গাড়ি পরিষ্কারের কাজ করেন।
জানা যায়, সাইদা ফকির চলতি মাসের ১৯ তারিখ বাজার করতে গেলে তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটক করে মুম্বাই পুলিশ। এ সময় বারবার নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করলেও তার অনুনয়-বিনয়ে পাত্তা দেয়নি, মুম্বাই পুলিশ। উল্টে পরিবারের সঙ্গেও তাকে যোগাযোগের কোনো সুযোগ দেয়া হয়নি।
সাইদা নিখোঁজ থাকায় পরিবার পক্ষ থেকে পুলিশের দ্বারস্থ হলে জানতে তারা পারেন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে তাকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ৩০০০ কিলোমিটার দূরের আসামের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এমন ঘটনায় আকাশ ভেঙে পড়ে পরিবারের মাথায়।
পরিবার জানায়, কোনরকম আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার আগেই চার দিনের মাথায় ২৩ তারিখ আসাম সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয় সাইদাকে। বর্তমানে কোনোভাবে সিলেট হয়ে বসিরহাট সীমান্তের অদূরে বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় অবস্থান করছেন তিনি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেখান থেকেই ভিডিও কলে ভারতে ফেরার আকুতি জানিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সাইদা। এরপর তাকে দেশে ফেরাতে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ভুক্তভোগী সাইদার ছেলে ও বৌমা।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে সাইদার ভারতীয় নাগরিকত্বের সব ধরনের প্রমাণপত্র তুলে ধরা হয়। তবে হাইকোর্ট এই দিন কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। পরিবার আপাতত পরবর্তী শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
মাত্র একমাস আগেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসে অবৈধ পুশব্যাকের ভুক্তভোগী সোনালী বিবি ও তার পরিবার। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারেরকে রীতিমতো ভৎসর্না করে আদালত। অভিযোগ ওঠে যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার অপরাধে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হচ্ছে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হলেও মাঠ পর্যায়ে যে সেই নির্দেশ এসে পৌঁছায়নি সাইদা বিবির ঘটনায় এই বিষয়টি আবারও পরিষ্কার হয়েছে।
সাহিদা বিবির পুত্রবধূ রুপালি কারিগর এবং পুত্র সাইন ফকির বলেন, ‘আমরা আদালত ছাড়াও ইতিমধ্যেই মানবাধিকার কমিশনেও গিয়েছি। মায়ের ভারতীয় নাগরিকত্বের সমস্ত প্রমাণ সেখানে জমা করেছি। আমার মাকে ফেরত পেতে চাই। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা করুক। আমরা ইতিমধ্যে প্রশাসনিক একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।’
এসএন