কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে, অভিযোগ হেফাজতের
ছবি: সংগৃহীত
১২:৪৪ পিএম | ২৯ জুলাই, ২০২৬
সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত যৌন নিপীড়নের কিছু অভিযোগকে কেন্দ্র করে কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও কাঠামোগত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সংগঠনটির আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে এ ধরনের প্রচারণার তীব্র নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে হেফাজত নেতৃদ্বয় বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ব্রাহ্মণ্যবাদ, আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ ভূমিকার কারণে এবং বাংলাদেশে ইসলামকে ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে ধরে রাখায় কওমি মাদরাসা আবারও টার্গেটে পরিণত হয়েছে। এ দেশে ইসলামী মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যখনই আক্রান্ত হয়েছে, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সিলসিলা বহনকারী কওমি মাদরাসা রুখে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশবিরোধী শাহবাগী শক্তিকে প্রতিরোধে নেতৃত্ব দিয়েছিল কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদ্রাসার জায়গা-জমি দখলের উদ্দেশ্যে মিথ্যা যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলা হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই কিছু ক্ষেত্রে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর সুযোগ নিচ্ছে ভূমিদস্যুরা, বিষয়টি উদ্বেগজনক।
হেফাজত নেতৃদ্বয় বলেন, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মাদ্রাসা, যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নের ঘটনা অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুতর। কোনো অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তে প্রমাণিত হলে অপরাধীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা প্রয়োগের বিকল্প নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওলামায়ে কেরাম সব সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে দেশের ছোট-বড় সব কওমি মাদরাসার পরিচালকদের শিক্ষার মানোন্নয়ন, পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে মাদরাসা পরিচালকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সব শিক্ষাঙ্গন হোক শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, এটিই আমাদের প্রত্যাশা।
কেএন/এসএন