© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অনুমতি দিয়েছিলেন অমিত শাহ: রাহুল গান্ধী

শেয়ার করুন:
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অনুমতি দিয়েছিলেন অমিত শাহ: রাহুল গান্ধী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:০৯ পিএম | ২৯ জুলাই, ২০২৬
ভারতের লোকসভায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তার এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বুধবার (২৯ জুলাই) সংসদে তুমুল হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে। 

অ্যান্টি-পেপার লিক বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সংসদে অনুপস্থিত থাকা অমিত শাহই দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযানের অনুমোদন দিয়েছিলেন।

রাহুলের এ মন্তব্যের পরপরই ক্ষমতাসীন জোটের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু রাহুলের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দাবি করেন। বিজেপি ও এনডিএর সদস্যরা অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। এ সময় স্লোগান ও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য অধিবেশনে বিঘ্ন ঘটে।

এনডিএ সদস্যরা রাহুল গান্ধীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান এবং অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান। এ সময় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা হস্তক্ষেপ করে বিরোধীদলীয় নেতাকে স্মরণ করিয়ে দেন, প্রমাণ ছাড়া সংসদে কোনও অভিযোগ আনা যায় না।

গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর-মন্তরে সিজেপির ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ বিতর্কের সূত্রপাত। সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ পেলেট গান, লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাসসহ বিভিন্ন ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ব্যবহার করে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে অনলাইনভিত্তিক সংগঠন সিজেপির নেতৃত্বে এবং কর্মী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে এ আন্দোলনের আয়োজন করা হয়।

এর আগে চলতি সপ্তাহে রাহুল গান্ধী অমিত শাহকে চিঠি দিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর ‘নৃশংস হামলার’ জন্য জবাবদিহি দাবি করেন। ওই চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বিচারে বলপ্রয়োগ, প্রাণঘাতী অস্ত্র ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের অনুমোদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েছিলেন কি না। তার অভিযোগ, ওই পুলিশি অভিযানে শত শত আন্দোলনকারী আহত হন।

উল্লেখ্য শিক্ষার্থী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় একপর্যায়ে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এই আন্দোলন যেন দেশবিরোধী শক্তিগুলোর দ্বারা ব্যবহৃত বা অপব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করতেই তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানান।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন