© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

শেয়ার করুন:
বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৩৪ পিএম | ২৯ জুলাই, ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশে বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর একটা রাজনীতির দিকে যাচ্ছে। যদি সন্ত্রাসীদের বিচার হয়, তাহলে বুঝবো বাংলাদেশে বিচার আছে, আইনের শাসন আছে। না হলে নেই।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে সদর থানা বরাবর অভিযোগ দায়ের শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আপনারা জানেন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে আমরা আছি। আমাদের গতকালকে একটি নির্ধারিত প্রোগ্রাম ছিল। পুরো বাংলাদেশে জুলাইয়ের বিচার এবং সংস্কার বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য আমরা পুরো বাংলাদেশের মানুষের কাছে যাচ্ছি। মানুষের সঙ্গে কথা বলার জন্য গিয়েছি। গতকালকে হবিগঞ্জে আমরা মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, আলোচনা করেছি। যখন বের হব, সেই সময় আমাদের ওপরে হত্যাচেষ্টা করা হয়। বিএনপির জি কে গউছের যারা অনুসারী রয়েছে, তারা আমাদের ওপরে চেইন, হকিস্টিক, রামদা দিয়ে আঘাত করে। সেখানে আপনারা দেখেছেন সারজিস আলমকে নির্মমভাবে আহত করা হয়েছে। অনেকের আহত হওয়ার পাশাপাশি ক্লাস টেনের একটি বাচ্চার চোখ তুলে নেওয়া হয়েছে। আমাদের সদস্যসচিবের হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল চুরি করেছে।

তিনি বলেন, আমরা সেই ঘটনার প্রতিবাদেই আজকে একটি বিক্ষোভ মিছিল করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা ঘোষণা দেওয়ার পর ছাত্রদল-যুবদলও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেখানে মহড়া দিয়েছে। আমরা মৌলভীবাজার থেকে রওনা দিয়েছিলাম। প্রথমে ৪০০ পুলিশ দিয়ে আমাদের প্রতিহত করা হয়েছে। আমরা সেই ব্যারিকেড ভেঙেছি। বালুর ট্রাক দিয়ে রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে। এখনো আমাদের পেছনে ছাত্রদলের প্রায় এক হাজার সন্ত্রাসী অবস্থান করছে, যাদের হাতে রামদা, কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র রয়েছে।

মামলা প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গতকাল যাদেরকে আহত করা হয়েছে, তাদের জন্য আজকে একটি মামলা করেছি। মামলার বাদী হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল। সাক্ষী হিসেবে আছেন মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, যিনি জেলা এনসিপির সদস্যসচিব এবং যার হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক ও জাতীয় ছাত্রশক্তি হবিগঞ্জের আহ্বায়ক নূরে আলম চৌধুরী রয়েছেন। ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হওয়া ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। কারণ হাসপাতালে যাওয়ার সময়ও অনেকেই হামলায় অংশ নিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, প্রধান আসামি করা হয়েছে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহমেদ রংগনকে। দ্বিতীয় আসামি বৃন্দাবন কলেজ ছাত্রদলের সেক্রেটারি আরিফুজ্জামান রিয়াদ। আমাদের ক্যামেরা, ল্যাপটপসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি নিয়ে গেছে। গাড়িতে থাকা ৫ লাখ টাকা নগদ লুট করেছে। প্রায় ৫০ লাখ টাকার একটি গাড়িও ভাঙচুর করেছে। পুরো দেশের মানুষ ভিডিওতে এই হামলা দেখেছে। আমরা দেখবো তারেক রহমানের আসলে বাংলাদেশে বিচার প্রতিষ্ঠার সেই সদিচ্ছাটা আছে কি না। এটা একটা টেস্ট কেস। সেই টেস্ট কেসে তারেক রহমান আশা করি পাস করবেন।

১৪৪ ধারা জারি নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম হবিগঞ্জে এসে মামলা করবো। আমরা এসেছি, মামলা করেছি। অন্যদিকে ছাত্রদল-যুবদল বিজয় উল্লাস করছে। সরকার প্রশাসনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছে। যদি ১৪৪ ধারা জারি হয়, তাহলে ছাত্রদল-যুবদল কীভাবে বিজয় মিছিল করে? আমাদের সেখানে যেতে দেয়নি। পুলিশ আমাদের আটকে রেখেছে। চারদিকে পাহারা, চারদিকে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে আমাদের ঘিরে রেখেছে।

তিনি বলেন, আমরা অভিযোগ দায়ের করেছি। পুলিশ বলেছে রাতের মধ্যে আমাদের জিআর নম্বর দেবে। আমরা যেহেতু ১৪৪ ধারা জারি হওয়ায় বিক্ষোভ মিছিল স্থগিত করেছি, তাই আজকে মূলত মামলাটি করা হয়েছে। আমাদের আহত নেতাকর্মীদের বিচার, ক্ষতিপূরণ এবং হামলাকারীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। পরবর্তী কর্মসূচি পরে জানানো হবে।

এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন