জবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৩৬ পিএম | ০৪ আগস্ট, ২০২৬
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল শিক্ষকদের নিয়ে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে জকসু, ইসলামী ছাত্রশিবির, ইনকিলাব মঞ্চ ও ছাত্রশক্তিসহ কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জকসুর ভিপি ও জিএস, সাংবাদিকসহ কয়েকজন আহত হন।
ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আজম খানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মেজবাহ-উল-আজম সওদাগর এবং মো. শহীদুল্লাহ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কমিটিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রশাসন আগে থেকেই বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
তবে অনুষ্ঠান চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করে বলেছে, এ ধরনের সহিংসতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম, শিক্ষার পরিবেশ এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য ক্ষতিকর।
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনকে মতপ্রকাশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংযম প্রদর্শন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
আরআই/টিএ