মৃত ভেবে মিলাদ, ১৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন বরগুনার আলমগীর
ছবি: সংগৃহীত
০৬:১৪ পিএম | ০৪ আগস্ট, ২০২৬
দীর্ঘ ১৮ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের ছোট টেংরা গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হাওলাদার। তবে যে পরিবারে ফেরার স্বপ্ন তিনি এতদিন লালন করেছেন, সেখানে আর নেই তার বাবা-মা। স্ত্রী অন্যত্র সংসার পেতেছেন, আর একমাত্র মেয়েরও বিয়ে হয়ে গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে জীবিকার সন্ধানে স্ত্রী আমেনা বেগম ও ছোট মেয়ে খাদিজাকে নিয়ে ঢাকায় যান আলমগীর। সেখানে তিনি দৈনিক শ্রমিক এবং তার স্ত্রী একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন। ওই বছরের নভেম্বর মাসে পোস্তগোলা এলাকায় কাজের খোঁজে বের হলে আলমগীর নিখোঁজ হন।
আলমগীরের দাবি, সেদিন একটি অপহরণকারী চক্র তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এরপর হাত-পা ও চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে রাখা হয়। সেখানে তার মতো আরও প্রায় ৩০ জনকে আটকে রেখে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করানো হতো। কিন্তু তাদের কোনো বেতন দেওয়া হতো না এবং অপ্রতুল খাবারের মধ্যেই বছরের পর বছর কাটাতে হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পরও আলমগীরের কোনো সন্ধান না পেয়ে তার স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করেন। বাবার অনুপস্থিতিতে নানা মানুষের বাড়িতে কাজ করে বড় হন মেয়ে খাদিজা। পরে তারও বিয়ে হয়ে যায়। অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান আলমগীরের বাবা-মা।
আলমগীর জানান, গত ২৮ জুলাই গভীর রাতে ঢাকার পোস্তগোলা ব্রিজের পাশে তাকে ও আরও প্রায় ৩০ জনকে চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে এক দিনের জন্য বালুবাহী জাহাজে কাজ দেন। সেই কাজের ৫০০ টাকা মজুরি দিয়ে তিনি কোনো রকমে নিজ বাড়ি পাথরঘাটায় ফিরে আসেন।
গত ২৯ জুলাই বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যাওয়া মানুষকে ফিরে পেয়ে অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
কীভাবে মুক্তি পেলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আলমগীরের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর অপহরণকারীরা নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাদের ছেড়ে দিয়েছে।
এদিকে আলমগীরকে মৃত ভেবে তার পরিবার ও এলাকাবাসী একাধিকবার মিলাদ, দোয়া মাহফিল এবং মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করেছিলেন। এমনকি তার স্মরণে কাঙালি ভোজও অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তবে আলমগীরের অপহরণ, দীর্ঘদিন আটকে রাখা এবং জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরআই/টিএ