© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মান খারাপ হওয়ায় ভারতের ১১,৫০০ টন চাল ফেরত পাঠাল বাংলাদেশ

শেয়ার করুন:
মান খারাপ হওয়ায় ভারতের ১১,৫০০ টন চাল ফেরত পাঠাল বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৩৩ পিএম | ০৪ আগস্ট, ২০২৬
মানহীন ও মানুষের খাওয়ার অনুপযোগী হওয়ার অভিযোগে ভারত থেকে আমদানি করা ১১ হাজার ৫০০ টন চালের একটি বিশাল চালান ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারি চুক্তির (জিটুজি) আওতায় আসা এই চালের একাংশ খালাসের পর পরীক্ষায় তা খাওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। তবে ভারতীয় রফতানিকারক ও ব্যবসায়ীরা চাল প্রত্যাখ্যানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সিন্ডিকেটের দ্বন্দ্বকে দুষছেন।

জানা গেছে, জিটুজি চুক্তির আওতায় গত ২১ জুলাই 'এমভি এইচটি পাইওনিয়ার জাহাজে করে চালের চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। ২২ জুলাই নমুনা পরীক্ষায় চালটিকে 'খাদ্য হিসেবে উপযোগী' বলে প্রাথমিক ছাড়পত্রও দেওয়া হয়। এরপর ২৩ ও ২৪ জুলাই জাহাজটি থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টন চাল খালাস করে তেজগাঁও, হালিশহর, দেওয়ানহাট এবং জয়দেবপুরের বিভিন্ন গুদামে পাঠানো হয়। কিন্তু ২৫ জুলাই তেজগাঁও ও হালিশহরের কর্মকর্তারা চালের মান খারাপ হওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং বিষয়টি খাদ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেন। এরপরই বাকি চালের খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পুরো চালানটি ভারতে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে জাহাজের শিপিং এজেন্ট এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, চাল কোনোভাবেই মানহীন নয়, বরং এর রঙ সামান্য লালচে ছিল মাত্র।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের ব্যবসায়ী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, চালের মান নিয়ে হঠাৎ তোলা এই আপত্তির পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব কাজ করছে। ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দু বিজনেস লাইনের তথ্যমতে, ব্যবসায়ীরা মনে করছেন বিগত সরকারের আমলে খাদ্য অধিদপ্তরে একচেটিয়া প্রভাব বিস্তারকারী সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে এখন প্রতিদ্বন্দ্বীরা একজোট হয়েছে। আর অভ্যন্তরীণ এই সিন্ডিকেট দ্বন্দ্বের পরোক্ষ শিকার হচ্ছে ভারতীয় চালের চালান। একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত দিনে পাকিস্তান থেকে চাল কিনে দাম বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ আবারও ভারতের দিকেই ঝুঁকেছিল, আর এখন তারা নতুন খেলা শুরু করেছে। এই রাজনৈতিক খেলা দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে এর বড় মূল্য চোকাতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চালের বাণিজ্যের পরিসর বেশ বড়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত থেকে ৮ লাখ ৯ হাজার টন চাল রফতানি হলেও, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১৩ লাখ ৬০ হাজার টনে (যার মূল্য ৫৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার)। এছাড়া চলতি অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকেও ৮১ লাখ ৯০ হাজার ডলার মূল্যের ১ লাখ ৬০ হাজার টন চাল ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে। এমন ঊর্ধ্বমুখী বাণিজ্যের মধ্যে হঠাৎ করে সরকারি চুক্তির এই চালানটি ফেরত যাওয়ার কারণে রফতানিকারকদের মধ্যে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য নিয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন

মন্তব্য করুন