ঢাবি উপাচার্যজুলাই গণঅভ্যুত্থান অন্যায়-স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর চিরন্তন প্রেরণা
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৩৫ এএম | ০৫ আগস্ট, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর চিরন্তন প্রেরণা। শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় সামনের সারিতে থাকবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাসব্যাপী কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, আহত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ, ১৪ জুলাইকে জুলাই উইমেন্স ডে হিসেবে পালন, জুলাই কর্নার প্রতিষ্ঠা, গ্রাফিতি সংরক্ষণ, ঐতিহাসিক স্মারক সংকলন প্রকাশ, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী ।
সংবাদ সম্মেলনে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষকবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে (আজ) বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এরপর সকাল ১১টায় টিএসসি মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। দুই অনুষ্ঠানেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল কোটা সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বৈষম্য, জবাবদিহিতার অভাব, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকোচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগের বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয়। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর বলপ্রয়োগ ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন এবং ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
উপাচার্য জানান, জুলাই আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের অসামান্য ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিবছর ১৪ জুলাই ‘জুলাই উইমেন্স ডে’ হিসেবে পালন করা হবে এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এবং আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে একটি বিশেষ ‘জুলাই কর্নার’ স্থাপন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের কেন্দ্রীয় আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী পাঁচজন শহীদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। একইদিন বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ‘মসজিদুল জামিয়া’-য় সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
উপাচার্য আরও জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের আঁকা ঐতিহাসিক গ্রাফিতিগুলো পুনরায় রংকরণ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ এবং আন্দোলনে সম্পৃক্তদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও আবাসিক হলে রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, সেমিনার, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আগস্টজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় পর্দায় জুলাই আন্দোলনের প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এমআর/টিএ