© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে, জুলাই সেই স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই: ইশরাক

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে, জুলাই সেই স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই: ইশরাক

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৪৬ পিএম | ০৫ আগস্ট, ২০২৬
বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, একটি সার্বভৌম ভূখণ্ড এবং একটি গর্বিত পতাকা দিয়েছে। জুলাই সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করার এক রক্তাক্ত লড়াই। জুলাই স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতির ভিত্তি।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।  

ইশরাক হোসেন বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের যে আকাঙ্ক্ষা মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণা ছিল জুলাইয়ের ছাত্র জনতার কণ্ঠে সেই আকাঙ্ক্ষাই আবার উচ্চারিত হয়েছে। সার্বভৌমত্ব শুধু মানচিত্র ও সীমান্তের বিষয় নয়। সার্বভৌমত্বের অর্থ বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশের জনগণ। বাংলাদেশ কোনও দেশীয় স্বৈরশক্তির কাছে মাথা নত করবে না। কোনও বিদেশি হস্তক্ষেপের কাছেও মাথা নত করবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপস হবে না। কিন্তু মানুষের এই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের অত্যন্ত ভারী মূল্য দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিরস্ত্র ছাত্রজনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আহতদের উপর নির্যাতন করা হয়েছে। রাজপথে হাসপাতালে এবং মানুষের ঘরে ঘরে ভয় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জুলাই শহীদদের পরিবারের সদস্যদের আমি বলতে চাই আপনারা একা নন। আপনারা রাষ্ট্রের কাছে অনুগ্রহপ্রার্থী নন বরং রাষ্ট্র আপনাদের কাছে ঋণী। আপনাদের সন্তান ভাই বোন, স্বামী কিংবা পিতা শুধু একটি পরিবারের সদস্য নন। তারা সমগ্র জাতির গর্ব। তাদের রক্তের ঋণ, শুধু বক্তব্য, স্মরণসভা কিংবা ফুল দিয়ে শোধ করা যাবে না। সেই ঋণ শোধ করতে হবে সত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে, তাদের পরিবারের মর্যাদা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এবং হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করার মাধ্যমে। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ এই রাষ্ট্রীয় মঞ্চ থেকে আমি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে চাই— জুলাই গণহত্যার পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা, বাস্তবায়নকারী ও সহযোগী কেউই বিচারের বাইরে থাকতে পারবে না। যে হাত গুলি চালিয়েছে যে মুখ হত্যার নির্দেশ দিয়েছে, যে শক্তি গণহত্যার পরিকল্পনা করেছে, যারা আলামত নষ্ট করেছে এবং যারা অপরাধীদের আশ্রয় কিংবা পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এই বিচার প্রতিশোধের বিচার হবে না, এই বিচার হবে প্রমাণভিত্তিক, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য। আমরা আংশিক বিচার চাই না, পূর্ণাঙ্গ বিচার চাই। আমরা দীর্ঘসূত্রতা চাই না। কিন্তু যৌক্তিক সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য বিচার চাই। কারণ বিচারের অযৌক্তিক বিলম্ব শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি আরেকটি অন্যায় হবে।   

তিনি বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করা শুধু একটি সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়। এটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। আমাদের আহত জুলাই যোদ্ধাদের অনেকেই আজও অসহনীয় কষ্ট করে চলেছেন। কেউ দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন, কেউ হাত কিংবা পা হারিয়েছেন। আবার কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। আমি তাদের বলতে চাই আপনারা অসহায় নন। আপনারা কারও বোঝা নন। আপনারা এই জাতির সম্মানিত যোদ্ধা। আপনাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনও আহত জুলাই যোদ্ধা চিকিৎসার অভাব পাবেন না। কোনও শহীদ পরিবার অবহলিত থাকবেন না। এটাই আমাদের আগামী দিনের অঙ্গীকার। জুলাইয়ের ইতিহাসকে আমরা হারিয়ে যেতে দেবো না। ইতিহাস বিকৃত করতে দেবো না। শহীদদের আত্মত্যাগ সংকীর্ণ রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করতে দেবো না।

শহীদ ও আহতদের পরিচয় তাদের সাক্ষ্য এবং জুলাইয়ের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যত প্রজন্ম জানতে পারবে কীভাবে বাংলাদেশের ছাত্রজনতা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পাশে থাকবে। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে এবং আপনাদেরই একজন হিসেবে আমি আজ আবারো জাতির সামনে অঙ্গীকার করছি শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা পুনর্বাসন ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে। জুলাইয়ের ইতিহাস সংরক্ষণ করা হবে এবং গণহত্যায় জড়িত প্রত্যেক অপরাধীর বিচার সম্পন্ন করা হবে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ আমাদের শিখিয়েছে পরাধীনতার কাছে মাথা নত করা যায় না। জুলাই আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে স্বাধীন দেশে স্বৈরাচার ও অন্যায়ের কাছেও মাথা নত করা যায় না। বাংলাদেশ কোনও ব্যক্তি পরিবার দল কিংবা দেশ শক্তির সম্পত্তি নয়। বাংলাদেশ তার জনগণের বাংলাদেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ।

এসএন 

মন্তব্য করুন