৭ হাজার মুক্তার গাউনে আলোচনায় ঐশ্বরিয়া
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৩৮ পিএম | ০৫ আগস্ট, ২০২৬
কান চলচ্চিত্র উৎসব মানেই যেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের ফ্যাশন-জাদুর নতুন অধ্যায়। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই চলচ্চিত্র উৎসবের লাল গালিচায় বছরের পর বছর ধরে নিজের ব্যতিক্রমী উপস্থিতি দিয়ে দর্শক ও ফ্যাশন সমালোচকদের দৃষ্টি কাড়ছেন তিনি। ২০২৬ সালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
এবারের কানে নীল ঝলমলে মারমেড গাউন থেকে শুরু করে নাটকীয় সাদা ট্যাক্সিডো লুকে নজর কেড়েছিলেন সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী। তবে উৎসব শেষ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফ্যাশন হাউস টনি ওয়ার্ড কতুর প্রকাশ করেছে তার আরেকটি অদেখা লুক, যা এখন ফ্যাশনপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
প্রকাশিত ছবিতে ঐশ্বরিয়াকে দেখা গেছে আইভরি-সাদা রঙের এক স্ট্র্যাপলেস গাউনে। প্রথম দেখায় যেন কোনো রূপকথার রাজকন্যার আবির্ভাব। রাজকীয়তা, আধুনিকতা ও শিল্পসম্মত নকশার সমন্বয়ে তৈরি পোশাকটির পুরো বডিসজুড়ে বসানো হয়েছিল সাত হাজারেরও বেশি মুক্তা। আলো পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো তৈরি করছিল ঝলমলে ঢেউয়ের মতো অপূর্ব প্রতিফলন।
গাউনটির বিশেষ আকর্ষণ ছিল হাতে তৈরি মুক্তার সূক্ষ্ম কারুকাজ। প্রতিটি মুক্তা এমনভাবে বসানো হয়েছে, যেন সমুদ্রের ঢেউয়ের ধারাবাহিক গতিময়তা ফুটে ওঠে। ত্রিমাত্রিক এই নকশা পোশাকটিকে দিয়েছে ভাস্কর্যের মতো সৌন্দর্য। অতিরিক্ত অলংকরণের পরিবর্তে সূক্ষ্ম শিল্পকর্মকে প্রাধান্য দেওয়ায় এটি ‘কোয়ায়েট লাক্সারি’র একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

পোশাকটির নাটকীয় আবহ আরও বাড়িয়েছে বিশাল আইভরি সিল্ক ট্যাফেটা ড্রেপিং। প্রায় ৪০ মিটার সিল্ক ব্যবহার করে কাঁধজুড়ে তৈরি করা হয়েছে ভলিউমিনাস রাফল, যা দূর থেকে ফুলের পাপড়ির মতো দেখায়। এই ভাস্কর্যধর্মী নকশাই পুরো লুকে এনে দিয়েছে হাই-ফ্যাশনের অনন্য মাত্রা। লেবাননের খ্যাতিমান ডিজাইনার টনি ওয়ার্ডের কারিগরি দক্ষতারও এটি একটি উজ্জ্বল নিদর্শন।
জানা গেছে, গাউনটি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় ৬০০ ঘণ্টা। প্রতিটি ভাঁজ, প্রতিটি মুক্তা এবং প্রতিটি সেলাইয়ে ফুটে উঠেছে হাউট কতুরের সূক্ষ্ম নান্দনিকতা ও নিখুঁত কারুশিল্প।
এত সমৃদ্ধ একটি পোশাকের সঙ্গে ঐশ্বরিয়া বেছে নিয়েছেন সংযত স্টাইলিং। ভারী অলংকারের পরিবর্তে তিনি পরেছিলেন মিনিমাল ডায়মন্ড জুয়েলারি—লম্বা হিরার ঝুমকা ও একটি স্টেটমেন্ট ডায়মন্ড রিং। ফলে গাউনের সৌন্দর্যই থেকেছে লুকের মূল আকর্ষণ।
মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। উজ্জ্বল ত্বক, হালকা শিমারি আইশ্যাডো, নিখুঁত আইলাইনার, ঘন পাপড়ি এবং নরম নিউড-গোলাপি ঠোঁটের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছিল সফট গ্ল্যাম লুক। অতিরিক্ত কনট্যুর বা গাঢ় রঙের ব্যবহার এড়িয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
চুলে ছিল ঐশ্বরিয়ার পরিচিত সিগনেচার স্টাইল। সাইড পার্ট করা সফট ওয়েভি হেয়ারস্টাইল পুরো লুকে যোগ করেছে ক্লাসিক হলিউড গ্ল্যামারের আবহ।
বর্তমান ফ্যাশন জগতে যেখানে মিনিমালিজম ও স্টেটমেন্ট কতুর সমান জনপ্রিয়, সেখানে ঐশ্বরিয়ার এই লুক দুই ধারারই নিখুঁত সমন্বয় হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। গাউনের বিশাল ভলিউম, মুক্তার সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং সংযত স্টাইলিং আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—বিলাসিতা মানেই অতিরিক্ত জাঁকজমক নয়; বরং নিখুঁত কারিগরি দক্ষতা ও পরিশীলিত উপস্থাপনাই প্রকৃত সৌন্দর্যের পরিচয়।
কান চলচ্চিত্র উৎসবের ইতিহাসে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের নাম দীর্ঘদিন ধরেই স্টাইল আইকন হিসেবে উচ্চারিত হয়ে আসছে। ২০২৬ সালের এই অদেখা কতুর লুক সেই মর্যাদাকে আরও দৃঢ় করেছে। রেড কার্পেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও তার ফ্যাশন-আবেদনের জাদু যে এখনও সমানভাবে আলোচিত হতে পারে, সেটিই যেন প্রমাণ করেছে এই বিশেষ উপস্থিতি।
এসএ/টিএ