লাফটার চ্যালেঞ্জের অডিশনেই দুইবার বাদ পড়েছিলেন কপিল শর্মা!
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫২ পিএম | ০৭ আগস্ট, ২০২৬
আজ যে নামটি ভারতীয় বিনোদন অঙ্গনে সাফল্যের প্রতীক, সেই কপিল শর্মার পথচলা কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না। কোটি দর্শকের প্রিয় এই কৌতুকশিল্পী একসময় বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। অথচ সেই প্রত্যাখ্যানই শেষ পর্যন্ত তাকে পৌঁছে দেয় সাফল্যের শিখরে। আর এই সংগ্রামের অজানা গল্প এবার সামনে এনেছেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহশিল্পী চন্দন প্রভাকর।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে চন্দন প্রভাকর জানান, ২০০৭ সালে জনপ্রিয় কৌতুকভিত্তিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের তৃতীয় আসরের অডিশনে প্রথমে পাঞ্জাবে এবং পরে দিল্লিতেও বাদ পড়েছিলেন কপিল শর্মা। অথচ তার অসাধারণ প্রতিভা সম্পর্কে শুরু থেকেই নিশ্চিত ছিলেন চন্দন প্রভাকর ও রাজীব ঠাকুর। তাদের বিশ্বাস ছিল, আয়োজকদের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল এবং প্রকৃত প্রতিভাবান মানুষটিকেই তারা বাদ দিয়েছেন।
চন্দনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ও রাজীব প্রতিযোগিতায় সুযোগ পেলেও কপিল ডাক না পাওয়ায় ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। বন্ধু হিসেবে তারা বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তাই প্রতিনিয়ত আয়োজকদের কাছে কপিলের কথা তুলে ধরতে থাকেন। তাদের দাবি ছিল, কপিলের মতো প্রতিভাবান একজন মানুষকে বাদ দেওয়া বড় ভুল।

পাঞ্জাবে ব্যর্থ হওয়ার পরও থেমে থাকেননি কপিল। দ্বিতীয়বার ভাগ্য পরীক্ষা করতে তিনি দিল্লিতে অডিশন দিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময় চন্দনের শুটিং থাকলেও কপিল তাকে নিজের সঙ্গে যেতে রাজি করান। কাউকে কিছু না জানিয়েই দুজন দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কপিল অডিশন দিলেও সেখান থেকেও প্রথম দফায় সুযোগ পাননি।
তবে কপিলের স্বপ্ন থামেনি। অন্যদিকে চন্দন ও রাজীবও বন্ধুর জন্য লড়াই চালিয়ে যান। প্রতিবার মহড়ায় গিয়ে তারা সহকারী পরিচালকদের মনে করিয়ে দিতেন, প্রকৃত প্রতিভাবান মানুষটিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বারবার অনুরোধের পর অবশেষে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত বদলায় এবং বিশেষ সুযোগে কপিলকে ডেকে পাঠায়।
কিন্তু সেই সুযোগের মূল্য দিতে হয়েছিল চন্দন প্রভাকরকে। কপিলকে জায়গা করে দিতে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হয় তাকেই। ব্যাগ গুছিয়ে ফিরে যেতে হলেও বন্ধুর জন্য সেই সিদ্ধান্তকে সহজভাবেই মেনে নিয়েছিলেন তিনি।

বিশেষ সুযোগে প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়েই সবাইকে চমকে দেন কপিল শর্মা। নিজের অসাধারণ পরিবেশনা দিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতে নেন তিনি। সেই জয়ই বদলে দেয় তার ভাগ্যের মোড়। এরপর ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী এবং নিজের অনুষ্ঠান দিয়ে গড়ে তোলেন অনন্য জনপ্রিয়তা।
অন্যদিকে প্রতিযোগিতা ছেড়ে দেওয়ার পর চন্দন প্রভাকর কিছুদিন সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করলেও সেই জীবন তাকে টানতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত আবার ফিরে আসেন অভিনয় ও কৌতুকের জগতে। পরে বন্ধু কপিল শর্মার অনুষ্ঠানেই অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। রাজীব ঠাকুরও একসময় সেই অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। বহু বছর পর চন্দনের মুখে উঠে আসা এই স্মৃতি আবারও মনে করিয়ে দিল, সাফল্যের পেছনে শুধু প্রতিভাই নয়, প্রয়োজন বন্ধুত্ব, বিশ্বাস এবং হার না মানা মানসিকতারও।
এসএ/এসএন