© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অভিনয় শিখতে এসে ঢাকায় কী ঘটিয়েছিলেন রিপন মিয়া?

শেয়ার করুন:
অভিনয় শিখতে এসে ঢাকায় কী ঘটিয়েছিলেন রিপন মিয়া?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৪৮ পিএম | ০৮ আগস্ট, ২০২৬
নেত্রকোনায় ১৪ বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় তাকে থানায় রেখে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশনের (ডুমা) প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মীর লোকমান।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রিপনকে নিয়ে এসব তথ্য জানান মীর লোকমান।

মীর লোকমান জানান, নেত্রকোনায় নিজ এলাকার এক চারুকলা শিক্ষার্থী ও মূকাভিনয়কর্মীর মাধ্যমে রিপনকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। তিনি কিছুদিন তার বাসায়ও ছিলেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মাইম শেখার সুযোগ দেওয়া হয় এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

মীর লোকমানের ভাষ্য, পরে রিপন নেত্রকোনায় ফিরে যাওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে ধারাবাহিকভাবে আপত্তিকর ক্যাপশনে পোস্ট দিতে থাকেন। তাকে বিভিন্নভাবে বোঝানো ও সতর্ক করা হলেও তিনি এসব বন্ধ করেননি।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক,  নেত্রকোনা জেলা পুলিশের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হয় বলে দাবি করেন মীর লোকমান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রিপনকে সারাদিন থানায় রাখা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার শর্তে তার ফোনের ছবি, ভিডিও ও পোস্ট মুছে ফেলা হয়। এরপর মুচলেকা নিয়ে সন্ধ্যায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মীর লোকমান আরও জানান, পরবর্তীতে রিপনকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা ও মাতামাতি শুরু হলে তিনি গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। তবে ওই পোস্টের নিচে অনেকেই তার সমালোচনা করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের স্ট্যাটাসে মীর লোকমান লেখেন, সম্প্রতি সংবাদে তিনি জানতে পারেন, রিপনের এলাকায় এক কিশোরীকে একা পেয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ঘটনা ভাইরাল হলেই আবেগের বশে কাউকে অতিরিক্ত প্রশংসা বা প্রচার না করাই ভালো।

এদিকে নেত্রকোনা সদর উপজেলায় ১৪ বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন-অচিন্ত্যপুর এলাকা থেকে রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভিডিও তৈরির অজুহাতে বিভিন্ন সময় ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন রিপন। গত ৩০ জুলাই রাত ৮টার দিকে তিনি ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে জরুরি কথা আছে বলে তাকে ডেকে মগড়া নদীর উত্তর পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি জানাজানি হলে গত সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিস বসে। সেখানে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও গ্রাম ছাড়ার জন্য তাকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল।

সালিসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। পরে ভুক্তভোগীর বাবা গত মঙ্গলবার রাতে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলা করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সালিসের একটি ভিডিওতে রিপনকে অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত লোকজনের কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, গ্রেপ্তার করা রিপন মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ এবং ওই ঘটনায় মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এসএ/টিএ

মন্তব্য করুন