© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতাল ছাড়লেন মিঠুন, ধন্যবাদ জানালেন চিকিৎসকদের

শেয়ার করুন:
অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতাল ছাড়লেন মিঠুন, ধন্যবাদ জানালেন চিকিৎসকদের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:০৭ পিএম | ০৯ আগস্ট, ২০২৬
হাতে অস্ত্রোপচারের পরে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ভারতীয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী।

চিকিৎসক ও নার্সদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেছেন, যে যত্ন তিনি পেয়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতায় বাইপাসের ধারের বেসরকারি হাসপাতালে কদিন আগে মিঠুনের হাতে অস্ত্রোপচার হয়। দুবছর আগে ওই হাতে চোট পেয়েছিলেন তিনি। হাতে আগেও একবার অস্ত্রোপচার হয়েছিল।

হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় শনিবার তিনি বলেন, “তিন দিন চোখের নিমেষে কেটে গেল। বুঝতেই পারিনি। সব চিকিৎসককে আমার কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশেষজ্ঞদের পুরো টিম যারা আমায় সুস্থ করে তুললেন তাদের অনেক ধন্যবাদ।”

নার্সদের প্রসঙ্গে ডিস্কো ড্যান্সার খ্যাত এই অভিনেতা বলেন, “তাদের কাছে থেকেও খুব যত্ন পেয়েছি। তার জন্যই আমি এত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে পারছি। অস্ত্রোপচারের দিনেই লক্ষ করলাম, আমার আঙুল দিয়ে কিছু ধরার মত অবস্থা ফিরে পাচ্ছি। আমায় এত সুন্দর সেবা করার জন্য মন থেকে সকলকেই ধন্যবাদ জানাই।’

ওই হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রসাদ কৃষ্ণন এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, মিঠুনের পরিস্থিতিটা একটু জটিল ছিল। তার হাতের কনুইয়ে আগে একটা অস্ত্রোপচার হয়েছিল। সেই হাতের একটা নার্ভ একটা প্লেটের সঙ্গে আটকে ছিল। আর প্লেটের স্ক্রু-গুলো নার্ভের উপর চাপ তৈরি করছিল। অস্ত্রোপচারের নার্ভ ও প্লেটকে দূরে সরানোর কাজটাই করা হয়েছে বলে ওই চিকিৎসক জানিয়েছিলেন।

হাসপাতালে মিঠুনকে দেখতে গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাসপাতালে থাকার কথা জানাজানি হোক, মিঠুন তা চাননি বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তবে পরে সোশাল মিডিয়ায় মিঠুন চক্রবর্তী সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।



বেশ কয়েকবছর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন মিঠুন। তা নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও ক্ষমতাসীন বিজেপির হয়ে গত দেড়-দুইমাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় প্রচার চালিয়েছেন মিঠুন।

বাংলাদেশের বরিশালে জন্ম নেওয়া গৌরঙ্গ চক্রবর্তী পরে ‘মিঠুন চক্রবর্তী’ নামেই ভারতীয় চলচ্চিত্রে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

১৯৭৬ সালে মৃণাল সেন পরিচালিত ‘মৃগয়া’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। প্রথম সিনেমাতেই তিনি ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার স্বীকৃতি পান।

পরে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমালেও শুরুটা খুব সহজ ছিল না। দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৮২ সালে ডিস্কো ডান্সার মুক্তির পর বদলে যায় তার ক্যারিয়ারের গতি। সেই সিনেমার সাফল্যই তাকে উপমহাদেশজুড়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। পরে বলিউড অভিনেত্রী যোগিতা বালিকে বিয়ে করেন মিঠুন।

গতানুগতিক ধারার বাইরের নাচে ৮০ এবং ৯০ এর দশকে বাংলাদেশ-ভারত দুই বাংলার দর্শকের রুচির পরিবর্তন আনতে ভূমিকা ছিল মিঠুনের। মিঠুনের নামের সঙ্গে জুড়ে আছে ‘ডিস্কো ডান্সার’।

এই অভিনেতা চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ৩৭০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ‘তাহাদের কথা’ এবং ‘স্বামী বিবেকানন্দ’ সিনেমার জন্যও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন তিনি।

৭৫ বছর বয়সী মিঠুন এখন সিনেমা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেশ সচেতন। তার ভাষ্য, এমন চরিত্রেই এখন অভিনয় করতে চান যা তাকে শিল্পী হিসেবে ‘আরও সমৃদ্ধ করবে’।

একেএস/টিএ

মন্তব্য করুন