যেখানেই আমার মৃত্যু আসুক, সেখানেই আমাকে ছেড়ে দিও: লাকি আলী
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৪৫ পিএম | ১০ আগস্ট, ২০২৬
নব্বইয়ের দশকে স্বাধীন সংগীতের জগতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করা গায়ক লাকি আলী। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য শ্রোতার ভালোবাসা পাওয়া এই শিল্পী সম্প্রতি এক কনসার্টে গিয়ে ভক্তদের আবেগে ভাসিয়েছেন।
তবে গান ও স্মৃতিচারণার মাঝেই হঠাৎ জীবনের নশ্বরতা এবং মৃত্যু নিয়ে এমন এক মন্তব্য করেন, যা মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দেয় পুরো আসর। ৬৭ বছর বয়সী লাকি আলী কনসার্টের মঞ্চে দাঁড়িয়ে জানান, তিনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত। এমনকি ভ্রমণের সময়ও নিজের সঙ্গে কাফনের কাপড় রাখেন বলে জানান তিনি। তার এই আধ্যাত্মিক বক্তব্যে আবেগঘন হয়ে পড়েন উপস্থিত শ্রোতারাও।
কনসার্টে ভক্তদের ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাস দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে লাকি আলী বলেন, ‘আমি জানি, আমিও তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি। একদিন আমাদের সবাইকেই চলে যেতে হবে। আমি তোমাদের তার জন্য প্রস্তুত করছি না, তবে আমি নিজে প্রস্তুত। আমি যখনই ভ্রমণ করি, সঙ্গে ইহরাম রাখি, যেটি আমার কাফনের কাপড়।

যেখানেই আমার মৃত্যু আসুক, সেখানেই আমাকে ছেড়ে দিও।’ লাকি আলীর এই বক্তব্যের পরই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এক অনুরাগী। দর্শক সারি থেকে তাকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘৩০ বছর হয়ে গেল। আমি লাকিকে কখনো ছাড়িনি।’ কনসার্টের সেই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন লাকি আলি।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রিয় শিল্পীর বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে নানা মন্তব্য করতে থাকেন ভক্তরা। কেউ তার দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন, আবার কেউ তার কথার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেছেন। নব্বইয়ের দশকে স্বাধীন ধারার সংগীতের মাধ্যমে ভারতীয় সংগীতাঙ্গনে আলাদা মাত্রা যোগ করেছিলেন লাকি আলী। কিংবদন্তি অভিনেতা মেহমুদের ছেলে হয়েও বলিউডের প্রচলিত ধারায় নিজেকে আটকে রাখেননি তিনি। বরং নিজের স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও গায়কির মাধ্যমে তৈরি করেছেন আলাদা পরিচয়।
‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’, ‘ইউভা’, ‘বাচনা অ্যায় হাসিনো’, ‘আনজানা আনজানি’ ও ‘তামাশা’র মতো জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমায় প্লেব্যাক করেছেন তিনি। তবে তার গাওয়া ‘ও সানাম’ গানটি এখনো সংগীতপ্রেমীদের কাছে সমান জনপ্রিয়।
২০১৫ সালের পর থেকে বলিউড ও মূলধারার বাণিজ্যিক সংগীত থেকে কিছুটা দূরে সরে নিজের মতো করে স্বাধীন সংগীতচর্চায় মনোনিবেশ করেছেন লাকি আলি। ব্যক্তিগত জীবনেও নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছেন এই শিল্পী। তিনবার বিয়ে করলেও কোনো সম্পর্কই স্থায়ী হয়নি। তবে সাবেক স্ত্রীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং সন্তানদের প্রতিও দায়িত্বশীল থেকেছেন বলে জানা যায়।
এসএ/টিএ