৫১ বছর বয়সেও মহেশ বাবুর তারুণ্যের গোপন রহস্য
ছবি: সংগৃহীত
০৮:০৯ পিএম | ১০ আগস্ট, ২০২৬
তেলুগু সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা মহেশ বাবু সদ্য ৫১ বছরে পা দিয়েছেন। কিন্তু তাঁকে দেখলে বয়সের হিসাবটা যেন মেলানো কঠিন। জন্মদিনে নতুন করে তাঁর ছবি প্রকাশ্যে আসতেই অনুরাগীদের মনে সেই একই প্রশ্ন- এত বছর পরেও কীভাবে এত তরুণ দেখায় তাঁকে?
বয়সের ছাপ কম দেখা যাওয়ার পেছনে জিনগত কারণ, ত্বকের যত্ন, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং জীবনযাত্রার ভূমিকা থাকতে পারে। তবে মহেশ বাবুর ক্ষেত্রে তাঁর খাদ্যাভ্যাসও বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
মহেশ বাবু এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তাঁর খাবারের তালিকায় দুগ্ধজাত খাবার ও পাউরুটি থাকে না। ফলে দই-ভাত, পেস্ট্রি বা বার্গারের মতো খাবারও তিনি এড়িয়ে চলেন। এর কারণ অবশ্য এই নয় যে এসব খাবার সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর। বরং তাঁর নিজের শরীর ও অন্ত্রের জন্য দুগ্ধজাত খাবার উপযুক্ত নয় বলেই তিনি তা বাদ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, তাঁর খাদ্যতালিকায় শাক-সবজির উপস্থিতি বেশি। অর্থাৎ অন্য কারও ডায়েট অনুসরণ না করে নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে খাবার বেছে নেয়াকেই গুরুত্ব দেন অভিনেতা।

অন্ত্রের সুস্থতার সঙ্গে ত্বকের সম্পর্ক
মানুষের অন্ত্রে অসংখ্য অণুজীব বা জীবাণু থাকে। এদের একটি অংশ শরীরের জন্য উপকারী। পর্যাপ্ত ফাইবারযুক্ত খাবার খেলে এই উপকারী জীবাণুগুলো শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু উপাদান তৈরি করতে পারে। এতে শরীরে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে অন্ত্রের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর প্রভাব শরীরের প্রদাহের মাত্রার ওপরও পড়তে পারে।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য, শরীরের প্রদাহ এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে, তাকে অনেক সময় ‘গাট-স্কিন অ্যাক্সিস’ বা অন্ত্র-ত্বক সম্পর্ক বলা হয়। শরীরে প্রদাহের মাত্রা কম থাকলে ত্বকের স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ত্বকের গঠন ও উজ্জ্বলতা ভালো থাকতে পারে এবং বয়সের ছাপ পড়ার গতি কিছুটা ধীর হতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ত্বকের প্রতিটি সমস্যার কারণ অন্ত্রের অসুস্থতা। হরমোন, বংশগত বৈশিষ্ট্য, পরিবেশ, প্রসাধনীসহ আরও নানা কারণে ত্বকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও ত্বকের মধ্যে যে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র রয়েছে, তা নিয়ে গবেষণা হয়েছে।
ত্বক ভালো রাখতে কী করবেন?
১. ফাইবারযুক্ত খাবার খান
প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফাইবার খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত। ফল, শাকসব্জি, বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজ ফাইবারের ভালো উৎস।
২. খাবারে রাখুন রঙিন সবজি
গাজর, টমেটো, ক্যাপসিকাম, পালংশাক, বিট ও কুমড়োর মতো রঙিন সবজিতে বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে। এগুলোর কিছু অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করতে পারে এবং শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।
৩. মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন
শুধু খাবারের দিকে নজর দিলেই ত্বক ভালো থাকবে—বিষয়টি এমন নয়। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্যেও পরিবর্তন আনতে পারে।
৪. নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুম
সুস্থ ও তারুণ্যময় চেহারা ধরে রাখতে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ।
এসএ/টিএ