সওজের বিতর্কিত প্রধান প্রকৌশলী মঈনুল হাসানকে সরিয়ে জনপ্রশাসনে ন্যস্ত
ছবি: সংগৃহীত
১১:৩৪ পিএম | ১১ আগস্ট, ২০২৬
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসানকে অবশেষে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যাপক দুর্নীতি ও দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। 'ফ্যাসিস্ট দোসর'- পরিচিতি পাওয়া মাইনুল শাস্তিমূলক বদলির দাবি উঠেছিল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর এক প্রতিবেদনে সওজের বাস্তবায়িত প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য উঠে আসার পর এবং নানা মহলের সমালোচনার মুখে অবশেষে তাকে স্বপদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে তাকে সংযুক্ত করা হয়। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৈয়দ মঈনুল হাসান ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাকালীন সময়ে ১৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। তিনি কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের একজন সক্রিয় সদস্য। এছাড়া, প্রকৌশলী ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ২০২২-২৩ মেয়াদের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের (সবুর-মঞ্জুর প্যানেল) কাউন্সিল মেম্বার হিসেবে বিনাভোটে নির্বাচিত হন।
শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে গঠিত সড়ক কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ছাত্রজীবনে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। সওজের প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পর তিনি প্রায়শই বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাদের বহর নিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতেন, যা নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা উঠেছিল।
শুধু নিজেই নন, তার পুরো পরিবারই ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতি ও এর ফায়দা নেওয়ার সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। মঈনুল হাসানের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের পাঁচুড়িয়া গ্রামে। তার আপন চাচাতো ভাই শামসুল আলম কচি মল্লিকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং নড়াইল জেলা পরিষদের সদস্য।
সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে জানায়, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজে সার্বিক দুর্নীতির হার ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ। সংস্থাটির মতে, সওজের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজে সর্বনিম্ন ২৯ হাজার ২৩০ কোটি টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকার বিশাল অংকের দুর্নীতি হয়েছে। আর এই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মূল কারিগর ও হোতা হিসেবে নাম আসে সওজের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসানের। বিশাল অঙ্কের এই অনিয়মের খবর প্রকাশের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এমআর/টিএ