‘আম্মাজান’ মুক্তির আগেই কোটি টাকা বস্তায় ভরে নিয়ে যান ডিপজল
ছবি: সংগৃহীত
০৩:০৫ এএম | ১৩ আগস্ট, ২০২৬
মান্না অভিনীত ‘আম্মাজান’ সিনেমাটি মুক্তির আগের দিনই এক কোটি ৪ লাখ টাকা তুলে ফেলেন এই সিনেমার প্রযোজক ডিপজল। সেদিন বস্তায় ভরে এই টাকা নিয়ে যান তিনি। সিনেমাটি করতে খরচ হয়েছিল মোট ১ কোটি ২ লাখ টাকা।
সম্প্রতি নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও কনটেন্টে এসব তথ্য দিয়েছেন 'আম্মাজানের' পরিচালক কাজী হায়ৎ।
১৯৯৯ সালের ২৫ জুন মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি নিয়ে ভিডিওতে কাজী হায়াৎ বলেন, ‘আম্মাজান আমার জীবনের সবচেয়ে ব্যবসা সফল ছবি। শুক্রবার ছবিটির রিলিজ ছিল। বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় যখন ছবিটি মুক্তি দিয়ে, মানে সব প্রিন্ট হলে পৌঁছে দিয়ে ঘরে এলাম, তখন ২ লাখ টাকা লাভ। অর্থাৎ ১ কোটি ২ লাখ টাকা খরচ ছিলো, ১ কোটি ৪ লাখ টাকা ডিপজল বস্তায় ভরে নিয়ে গেল। এটি ছিল ফিল্মের একটা রেকর্ড।’
ওই ভিডিওতে কাজী হায়াত আরও জানান, তুমুল আলোচিত এই সিনেমায় আম্মাজান চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবানার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ‘মান্নার মা’ হিসেবে তিনি পর্দায় না আসার সিদ্ধান্ত নেন। পরে এই সিনেমায় নামভূমিকায় ‘আম্মাজান’ চরিত্রে অভিনয় করেন শবনম।
এই সিনেমার আরও মজার ঘটনা হলো ডিপজল শুরুর দিকে মান্নাকে নায়ক হিসেবে নিতেই চাননি। কারণ ওই সময় মান্নার সঙ্গে তার বিরোধ ছিলো। কিন্তু মান্নার স্বভাব এমন ছিলো যে, ভালো গল্পের কথা শুনলেই নিজে থেকে চলে আসতেন ডিপজলের কাছে। এক্ষেত্রেও তাই। পরে পরিচালক কাজী হায়াতের অনুরোধে ডিপজল রাজী হন।

‘আম্মাজান’ সিনেমার শুটিং শুরু হলো। এখানেও ঘটে বিপত্তি। শুটিংয়ে মান্নার সঙ্গে আবার ডিপজলের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। সেটাও বেশ মজার ঘটনা। সিনেমার জন্য সে সময় এমন একটি ভবন বেছে নেওয়া হয়েছিল যেটা শুটিং শেষ হলেই ভেঙে ফেলা হবে। শুটিংয়ে কিছুটা তাড়া ছিল। সেদিন ডিপজল মান্নাকে বলেন, দুই ঘণ্টা বেশি শুটিং করে ওই ভবনের অংশগুলো শেষ করতে হবে। কিন্তু মান্না সে কথা শোনেননি।
এই ঘটনার কথা জানা যায় ডিপজলের পুরনো একটি সাক্ষাৎকার থেকে। সেই সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে সারা রাত অনেকবার শুটিং করেছি। কিন্তু সেদিন মান্না বাড়তি দুই ঘণ্টা সময় না দিয়েই বের হয়ে যায়। আমি রাগে শুটিং বন্ধ করে দিই। দুই মাস পর মান্না সরি বলে আবার কাজ শুরু করতে চায়। তখন আমি মান্নাকে বলেছিলাম, সিনেমার নেগেটিভ আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে বলেছি। আমি এর কিছু জানি না। এই ছবি আর হবে না। সরি বলে নানা ঘটনার পর আবার শুটিং শুরু হলো। মান্না জানত এই সিনেমা দর্শক দেখবেন। ও গল্প বুঝত।’
একেএস/টিএ