© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

স্মিথের নটআউট নিয়ে বিতর্ক, আলোচনায় ‘স্নিকোমিটার’ প্রযুক্তি

শেয়ার করুন:
স্মিথের নটআউট নিয়ে বিতর্ক, আলোচনায় ‘স্নিকোমিটার’ প্রযুক্তি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৪১ পিএম | ১৩ আগস্ট, ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে বাংলাদেশ ও স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার চলমান টেস্টে স্টিভেন স্মিথের একটি বিতর্কিত নটআউট সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ডিআরএসের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ‘স্নিকোমিটার’ বা ‘স্নিকো’-র নির্ভরযোগ্যতা ও কার্যকারিতা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।

দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে নেমে বাংলাদেশি পেসারদের আগুনেই বোলিংয়ে ব্যাকফুটে পড়েছিল স্বাগতিকরা। ম্যাচের একপর্যায়ে ব্যক্তিগত মাত্র ৭ রানে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশি পেসার এবাদত হোসেনের একটি লাফিয়ে ওঠা বলে ড্রাইভ করতে যান স্মিথ। বলটি স্মিথের ব্যাট স্পর্শ করে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে জমা হলে জোরালো আবেদন জানায় বাংলাদেশ দল। তবে মাঠের আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা তাতে সায় না দিলে বাংলাদেশ রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

টিভি রিপ্লেতে বল ব্যাটে লাগার স্পষ্ট আভাস দেখে স্মিথ নিজেই প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ডিআরএসের আল্ট্রা-স্নিকোতে বল ও ব্যাটের সংযোগকালে কোনো শব্দ সংকেত বা 'স্পাইক' ধরা না পড়ায় থার্ড আম্পায়ার তাকে নটআউট ঘোষণা করতে বাধ্য হন। এতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের হতাশ হওয়ার পাশাপাশি ধারাভাষ্যকাররাও স্নিকোর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কী এই 'স্নিকোমিটার'?

স্নিকোমিটার হলো আধুনিক ক্রিকেটের ডিআরএসে ব্যবহৃত অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তি। স্টাম্পের ভেতরে থাকা মাইক্রোফোন এবং উচ্চগতির ক্যামেরার সাহায্যে বল ব্যাটে বা প্যাডে লাগার সময় তৈরি হওয়া সূক্ষ্ম কম্পন ও শব্দ রেকর্ড করা হয়। দৃশ্যমানের সঙ্গে অডিও সাউন্ড ওয়েভের সুনির্দিষ্ট মিল বজায় রেখে থার্ড আম্পায়ার সিদ্ধান্ত নেন বলটি ব্যাটে স্পর্শ করেছিল কি না।

উল্লেখ্য, স্নিকো প্রযুক্তির ত্রুটি এবারই প্রথম নয়। এর আগে সর্বশেষ অ্যাশেজ সিরিজের অ্যাডিলেড টেস্টে অডিও-ভিডিও সিঙ্ক ত্রুটির কারণে অস্ট্রেলীয় ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি আউটের হাত থেকে বেঁচে যান। পরবর্তীতে ক্যারি নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে বল তার ব্যাটে লেগেছিল। সেখানে ভুল স্টাম্প মাইক্রোফোনের অডিও ব্যবহারের কথা স্বীকারও করেছিল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। এমনকি তৎকালীন অজি পেসার মিচেল স্টার্ক প্রকাশ্যে একে 'বাজে প্রযুক্তি' হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।

ডারউইনে স্মিথের এই ঘটনায় ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্নিকোমিটারের ওপর পূর্ণ ভরসা করা কতটা যৌক্তিক।

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন