দাবি ওয়াশিংটনের‘হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা’-রসিকতা করে বলেছিলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত
০৪:২৩ পিএম | ১৫ আগস্ট, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ কথা ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘রসিকতা করে’ বলেছিলেন বলে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদক ব্রায়ান শোয়ার্টজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানান, হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণার বিষয়ে ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে কোনো বৈঠক করেননি।
শোয়ার্টজ লেখেন, নিউইয়র্কে শুক্রবারের বক্তব্যে ট্রাম্প ওই মন্তব্যটি রসিকতা করেই করেছিলেন। নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর তিনি ‘শিগগিরই’ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন।
কথাটি বলার সময় ট্রাম্প হেসেছিলেন। তবে এরপর তিনি বিষয়টি সত্য বলেও দাবি করেন বলে শোয়ার্টজ জানান। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে সামুদ্রিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র না চাইলে কোনো জাহাজ সেখান দিয়ে যেতে পারবে না।
মার্কিন নিয়ন্ত্রণের দাবি নিয়ে ইরানের আপত্তি
তবে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সিএনএনের উদ্ধৃত পণ্য ও জাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১২ আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধ শুরুর পর ১৬৬ দিনে প্রায় ৩ হাজার ৩৭১টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ২০ শতাংশে।
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে এই জলপথের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এপ্রিলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। পরে ১৭ জুন চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরুর জন্য একটি সমঝোতায় পৌঁছায় দুই দেশ। তবে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ নৌ চলাচলসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা পরবর্তী সময়ে থমকে যায়।
এর মধ্যে ৮ থেকে ২৪ জুলাই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলাও হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। জবাবে ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।
এমআই/টিএ