© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৫৩ এএম | ১৬ আগস্ট, ২০২৬
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার, যাতে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে যায় এবং সেই অঙ্গীকার থেকেই বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ পরিমাণ বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেটটাকে যেন যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়- যাতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রত্যেকটি উপজেলার প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে ৫০ শয্যার সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং উদ্বোধনের পর বন্ধ থাকা হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অংশ হিসেবে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন ৫০ শয্যা বা ৩০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার। কিন্তু গতকাল একটি বৈঠক হয়েছে, সে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রত্যেকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অর্থাৎ সাভার উপজেলা কমপ্লেক্সসহ প্রত্যেকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে পরিণত হবে।

তিনি আরও বলেন, ১৫১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালগুলোতে মেডিসিন, গাইনি, শিশু রোগ- এগুলোর পাশাপাশি ধাপে ধাপে বিশেষায়িত সেবাগুলোও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। যাতে মানুষ তা নিজের উপজেলাতেই অধিকাংশ রোগব্যাধির চিকিৎসা পায়।

তিনি বলেন, বিগত সময়গুলোতে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়
করা হয়েছে এবং ব্যবহার সঠিকভাবে হয়নি। ফলশ্রুতিতে আমরা সে অবস্থা থেকে বের করে আনতে গেলে হয়ত একটু সময় লাগবে, আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধরে সহযোগিতা করতে হবে এবং সরকার, চিকিৎসক জনপ্রতিনিধিরা আমরা সবাই মিলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করছে। আগামী ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের নিজের এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন এবং অগ্রগতি দেখবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

উদ্বোধনের পর চালু না হওয়া হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ২০২২ সালে এই বিল্ডিংগুলো তৈরি হয়েছে, আজকে ২০২৬ সাল ৪টি বছর, এতো সুন্দর করে রাষ্ট্রের অর্থে জনগনের অর্থে তৈরি করা হয়েছে কিন্তু এই বিল্ডিংটাকে কোনো কাজে লাগানো হচ্ছে না। আজকে আমি সরেজমিনে সেখানে দেখেছি সেখানে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেবো। এই হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট শুধু সাভারের জন্য নয়, সারা বাংলাদেশের সমস্ত উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতাল, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা যারা পরিচালনা করেন, ৬৪ জেলায় আমাদের সিভিল সার্জন, বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং উপজেলায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডাক্তারদেরকে ধাপে ধাপে ম্যানেজমেন্টের ওপরে এখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে- যাতে তারা প্রতিটি উপজেলায় সঠিকভাবে তাদের কাজ পরিচালনা করতে পারেন।

ডেঙ্গুর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এক দেড় মাস আগে ডেঙ্গুর বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের সাথে বৈঠক করার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিটি করপোরেশন, পৌরসভাগুলোর সাথে কথা বলেছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হলে সবার আগে জনগণ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা দরকার। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু ওষুধ দিয়ে সম্ভব না, এর জন্য ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, মশা যেখানে গড়ে ওঠে সেটি বন্ধে কাজ করা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি যাদের ডেঙ্গু হবে তারা যেন সঠিক সময়ে, সঠিক চিকিৎসা পায় সেজন্য একমাস আগেই হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সবার আগে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে।

এ সময় ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. ফজলে বারীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

একেএস/টিএ

মন্তব্য করুন