রাজধানীর সদরঘাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী নিহত
ছবি: সংগৃহীত
০২:০৭ এএম | ১৬ আগস্ট, ২০২৬
রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় ইস্ট বেঙ্গল সুপার মার্কেটে শ্রমিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মধ্যে সংঘর্ষে মিতুল (২০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সূত্রাপুর থানাধীন ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটের ১৫ তলায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত মিতুলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ বর্তমানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
নিহত মিতুলের বাবার নাম মো. রাসেল সরদার। তাদের বাড়ি ঝালকাঠি সদর থানার সাহাবাঙ্গল গ্রামে। তিনি কোতোয়ালি থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে সূত্রাপুর থানার অপারেশন ইনচার্জ মতিউর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটের ১৫ তলায় শ্রমিকদের মধ্যে আগে থেকেই কোনো বিরোধ ছিল বলে আমরা প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছি। পূর্বশত্রুতার জেরে এক যুবককে সিজার (কাপড় কাটার কাঁচি) দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সাবেক যুবদল নেতা সোবহান ও সাবেক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কিরণ দুজনই সুমন ভুঁইয়ার অনুসারী। তারা দুজনই কোতোয়ালি থানা যুবদলের পদপ্রত্যাশী। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে সেই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয় বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষে কিরণ গ্রুপের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। পরে তার মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। এদিকে নিহতের স্বজনসহ প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জন বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি মিটফোর্ড হাসপাতালে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. সুমন ভুঁইয়া বলেন, এরা আমার সমর্থক নয়। তবে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে থাকে। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। বিস্তারিত জানতে পারিনি।
সংঘর্ষের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না জানতে চাইলে সূত্রাপুর থানার অপারেশন ইনচার্জ মতিউর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে তা আমরা জানি না। যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হয়ে বলতে হবে।
একেএস/টিএ