আরাধ্যার স্বাস্থ্য নিয়ে গুজব, হাইকোর্টে উঠল নতুন বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত
১২:৪৮ পিএম | ১৬ আগস্ট, ২০২৬
অমিতাভ বচ্চনের নাতনি এবং অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের মেয়ে আরাধ্যা বচ্চনের স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবরের মামলায় নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন তুলেছে দিল্লি হাইকোর্ট।
২০২৩ সালে দায়ের হওয়া এই মামলায় বৃহস্পতিবার শুনানি হয়। বিচারপতি অনুপ জয়রাম ভাম্বানির একক বেঞ্চ জানতে চেয়েছে, কোনো পরিবারের নাম ও সুনাম কি ট্রেডমার্কের মতো প্রজন্মের পর প্রজন্ম আইনি সুরক্ষার আওতায় থাকতে পারে?
শুনানিতে আদালত ব্যক্তি ও পরিবারের ভাবমূর্তি এবং ট্রেডমার্কের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরে। বিচারপতি ভাম্বানি বলেন, কোনো পণ্য বা ব্যবসার সঙ্গে ট্রেডমার্ক কিংবা ব্র্যান্ডের নাম যুক্ত থাকে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা।
আদালতের সামনে প্রশ্ন ওঠে, কোনো পারিবারিক নামকে যদি ট্রেডমার্কের মতো সুনামের অধিকার দেওয়া হয়, তাহলে সেই সুনাম কত প্রজন্ম পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকবে? পরিবারের কোনো সদস্যের কাজ ও সাফল্যের মাধ্যমে অর্জিত খ্যাতির আইনি অধিকার পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেত্রেও কতটা কার্যকর হতে পারে, সেটিও বিবেচনায় এসেছে।

এছাড়া মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর কোনো খবর প্রকাশ করা-তা যতই কুরুচিকর বা নীতিহীন হোক- সেটিকে আদৌ মেধাস্বত্বের অধিকার লঙ্ঘন বলা যায় কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছে আদালত। যদি তা লঙ্ঘন হয়, তাহলে কোন ধরনের মেধাস্বত্বের আওতায় সেটি পড়বে, তা নিয়েও শুনানিতে আলোচনা হয়।
আরাধ্যার পক্ষে আইনজীবী প্রবীণ আনন্দ আদালতে বলেন, বচ্চন পরিবারের সদস্যদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব ভুয়া খবরের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ও ‘গুডউইল’ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালে। সে সময় বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে আরাধ্যার স্বাস্থ্য নিয়ে একাধিক ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রকাশ করা হয়। কোনো কোনো ভিডিওতে দাবি করা হয়, আরাধ্যা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। এমনকি তার মৃত্যুর মতো কুরুচিকর গুজবও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। বচ্চন পরিবার ইচ্ছাকৃতভাবে তার চিকিৎসায় দেরি করছে- এমন অভিযোগও করা হয়েছিল।
এরপর বাবা অভিষেক বচ্চনের মাধ্যমে আরাধ্যা দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলায় এসব ভুয়া তথ্য ও ভিডিও বন্ধ করার পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার আবেদন জানানো হয়।
২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট একাধিক ইউটিউব চ্যানেলকে আরাধ্যার স্বাস্থ্য নিয়ে ভুয়া খবর ও ভিডিও প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। আদালত তখন একটি শিশুকে নিয়ে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও স্পর্শকাতর তথ্য ছড়ানোর ঘটনায় কঠোর অবস্থান নেয়। আদালত স্পষ্ট করে, প্রতিটি শিশুর মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। সে সময় গুগলকেও তাদের প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এবার মামলাটিতে আরও বিস্তৃত আইনি প্রশ্ন সামনে এসেছে। ব্যক্তিত্বের অধিকার, পারিবারিক সুনাম, মেধাস্বত্ব এবং অনলাইনে ভুয়া তথ্য প্রচারের মধ্যে আইনি সম্পর্ক কী- তা নিয়েই আদালতের পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেদিন এসব আইনি প্রশ্ন নিয়ে আরও বিস্তারিত শুনানি হতে পারে।
এসএ/এসএন