© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

উ. কোরিয়া-রাশিয়ার সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার কিম ও পুতিনের

শেয়ার করুন:
উ. কোরিয়া-রাশিয়ার সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার কিম ও পুতিনের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:০০ পিএম | ১৬ আগস্ট, ২০২৬
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে দুই নেতা একে অপরকে পাঠানো বার্তায় এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে পুতিনের পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তার জবাব দেন কিম জং উন। খবর সামা টিভি অনলাইন-এর। 

পুতিন তার বার্তায় বলেন, সোভিয়েত সেনাদের জাপানের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত হবে।

জবাবে কিম জং উন দুই দেশের যৌথ সংগ্রামের ইতিহাস ও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে সম্পর্ক আরও উন্নয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সামরিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিয়ংইয়ং ও মস্কোর সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন দিতে উত্তর কোরিয়া সেনা ও অস্ত্র সরবরাহ শুরু করার পর দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে।

কোরীয় যুদ্ধের পর এটি কোনো বিদেশি সংঘাতে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় সম্পৃক্ততা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা সম্প্রসারণে দক্ষিণ কোরিয়া এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে মুক্তি দিবসের বার্ষিকী উপলক্ষে রাশিয়ার নৌবাহিনীর জাহাজ পালাদা শনিবার উত্তর কোরিয়ার ওনসান বন্দরে সৌহার্দ্য সফরে পৌঁছায়। কেসিএনএ জানায়, উত্তর কোরিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তারা এবং রুশ দূতাবাসের প্রতিনিধিরা জাহাজটিকে স্বাগত জানান।   

অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং মুক্তি দিবসের অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে সংলাপ শুরুর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দুই কোরিয়ার মধ্যে সংঘাত এড়াতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিবর্তে একটি স্থায়ী শান্তি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধ যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হলেও কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ফলে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

লি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ আলোচনায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সিউলের সংলাপের প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে তারা বারবার ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড’ বলে সমালোচনা করে আসছে।

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন