মধু দিয়ে গুলির ক্ষত সারাতেন পেহেলগাম হামলার হোতা
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪৭ পিএম | ০৪ অক্টোবর, ২০২৬
জম্মু-কাশ্মীরের গহিন জঙ্গলে খাঁটি মধু ব্যবহার করে গুলির ক্ষত সারাতেন আত্মগোপনে থাকা লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি) কমান্ডার মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা। ২০২৫ সালের পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন তিনি। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে সেনা অভিযানের মুখে নিহত হন এ জঙ্গি কমান্ডার।
পিটিআইর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর কারণে মুসার পক্ষে কোনো হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব ছিল না। ফলে বাধ্য হয়েই ক্ষতে মধু লাগিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
গত সেপ্টেম্বরে ইউসমার্গে মুসার সহযোগী ইয়াসির সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। সেই ফোনটি তল্লাশি করতেই বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ তথ্য। ফোনে মুসার ক্ষতস্থানে মধু মাখানো অবস্থায় বেশকিছু ছবি পাওয়া যায়।
কর্মকর্তারা জানান, ছবিগুলো মূলত পাকিস্তানে অবস্থানরত লস্করের ঊর্ধ্বতন নিয়ন্ত্রকদের (হ্যান্ডলার) কাছে পাঠানো হয়েছিল। ছবি দেখার পর পাকিস্তান থেকেই মুসার জন্য খাঁটি মধুর ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছিল তার নিয়ন্ত্রকরা।
অপারেশন শেরুয়ালি চলাকালে রাজৌরির দোরিমাল-গম্ভীর মুঘলা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র গোলাগুলির সময় মুসা পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। এরপর তিনি ও তার সহযোগী ইয়াসির পুঞ্চ-রাজৌরির দুর্গম বনে আত্মগোপন করেন। তাদের ধরে আনতেই টানা ৪৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে যৌথ অভিযান চালায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী।
পরবর্তী সময়ে বুদগামের ইউসমার্গে এক অভিযানে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হন কাশ্মীরে লস্করের প্রধান অপারেশনাল কমান্ডার মুসা। ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, নিহত মুসা একসময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিশেষ কমান্ডো দল স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের (এসএসজি) সদস্য ছিলেন, যা তার দীর্ঘ সময় ধরে পাহাড়-জঙ্গলে টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছিল।
সূত্র : দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
এমআর/টিএ