শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পেরু
ছবি: সংগৃহীত
১০:২৫ এএম | ২১ আগস্ট, ২০২৬
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর বিভিন্ন অঞ্চলে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্যমতে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬ দশমিক ৭ হলেও পেরুর ভূ-পদার্থবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট (আইজিপি) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় তীব্র ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ারে’ অবস্থিত ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষের এই দেশটিতে প্রায়ই ভূকম্পন অনুভূত হয়। সর্বশেষ এই ভূমিকম্পে রাজধানী লিমা কেঁপে উঠলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ভূকম্পনটি অনুভূত হয়। আইজিপির জাতীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (সেনসিস) জানায়, এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০৮ কিলোমিটার গভীরে এবং উপকেন্দ্র ছিল আয়াকুচো বিভাগের পারিনাকোচাস প্রদেশের কোরাকোরা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে।
ভূকম্পবিদদের মতে, উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠের বেশ গভীরে হওয়ায় ওপরের স্তরে পৌঁছানোর আগেই কম্পনশক্তির বড় একটি অংশ শোষিত হয়ে যায়। ফলে উপকেন্দ্রের আশপাশে কম্পনের তীব্রতা মার্কেলি স্কেলে ৩ থেকে ৪ মাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যা মূলত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কম্পন হিসেবে ধরা হয়।
তবুও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আইজিপি সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে ঘর থেকে দ্রুত বের হওয়ার পরিকল্পনা আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা এবং প্রয়োজনীয় জরুরি সামগ্রীর ব্যাগ গুছিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে ২০২২ সালের মে মাসে দেশটির আজাঙ্গারো শহরে ৭ দশমিক ২ মাত্রার এবং ২০২১ সালের নভেম্বরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যাতে বহু ঘরবাড়ি ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী ভূমিকম্পটি ঘটেছিল ২০০৭ সালে; সে বছর ইকা অঞ্চলে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার কম্পনে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ৬০০ মানুষ।
এফআর/এসএন