সিনহা হত্যা: জবানবন্দি শেষে কারাগারে ৪ আসামি
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে আসামি চার পুলিশ সদস্যকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকেলে বিষয়টি জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সিনহা হত্যা মামলার আসামি চার পুলিশ সদস্যদের জবানবন্দি শেষে বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে প্রিজনভ্যানে করে আদালত থেকে জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, সিনহা হত্যা মামলায় এই চার পুলিশ সদস্য তাদের দোষ স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
এর আগে বেলা ১১টায় জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত কক্সবাজার সদর-৪-এর বিচারক তামান্না ফারাহ’র আদালতে এ চার আসামিকে হাজির করা হয়। জবানবন্দি দেওয়া চারজন হলেন- টেকনাফ থানার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া উপপরিদর্শক (এসআই) লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন। তাদের নিয়ে এ মামলার ১৩ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন।
খাইরুল ইসলাম বলেন, সিনহা হত্যা মামলার আসামি চার পুলিশ সদস্যের দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিতে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারকের খাস কামরায় তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া শুরু হয়। আদালতে হাজির করার পর প্রথমে সোয়া ১১টায় এএসআই লিটন মিয়া ও আব্দুল্লাহ আল-মামুনের জবানবন্দি নেওয়া শুরু হয়। এর আধা-ঘণ্টা পর কনস্টেবল কামাল হোসেন ও কনস্টেবল সাফানুর করিমের জবানবন্দি নিতে খাস কামরায় হাজির করা হয়।
মামলার আসামিদের মধ্যে প্রথম দফায় তিন আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ান সদস্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। দ্বিতীয় দফায় মামলার প্রধান আসামি বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও উপপরিদর্শক নন্দ দুলাল রক্ষিত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আদালতে। টেকনাফ থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষী মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দীন ও আয়াছ উদ্দীনও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত ১২ আগস্ট আদালত এই হত্যা মামলার আসামি এই চার পুলিশ সদস্যকে প্রথম দফায় সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রথম দফায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ১৪ আগস্ট তাদের র্যাব হেফাজতে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে গত ২০ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করা হয়। গত ৬ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় এই চার আসামিকে চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাব হেফাজতে নেওয়া হয়। ২৪ আগস্ট আদালত তাদের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।
গত ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মেরীন ড্রাইভ সড়কে এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।
আরও পড়ুন
মেজর সিনহা হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তি দিবেন আরও তিন পুলিশ সদস্য
সিনহা হত্যা: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি
ক্রসফায়ারে হত্যা: ওসি প্রদীপসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে আরও দুই মামলা
টাইমস/এইচইউ