© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ব্যাটিং ধসে ২ দিনেই ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

শেয়ার করুন:
ব্যাটিং ধসে ২ দিনেই ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:২২ এএম | ২৩ আগস্ট, ২০২৬
ডারউইনের বাংলাদেশ আর ম্যাকাইয়ের বাংলাদেশ যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল যে দলটি, ম্যাকাইতে নেমে যেন তারা ২৩ বছর আগের দুঃসহ স্মৃতি ফেরাল। প্রথম টেস্টে চার দিনে ১১ সেশনজুড়ে ব্যাটে-বলে দাপট দেখানো বাংলাদেশ গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনায় দুই দিন শেষ না হতেই ইনিংস ও ৫১ রানে হার দেখল। হোয়াইটওয়াশের শঙ্কা উড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের সিরিজ শেষ করল ১-১ এ সমতায় থেকে। 

দ্বিতীয় সেশনে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১ রানের ব্যবধানে পাঁচ উইকেট হারাল বাংলাদেশ। একে একে নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলাম উইকেট হারালেন। ৮২ রানে ৮ উইকেট পড়েছে তাদের। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ম্যাকাই টেস্টে ইনিংস হার এড়ানোই বাংলাদেশের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে। ৮ উইকেটে ৯৫ রানে শেষ সেশনের বিরতিতে গেছে তারা। মুশফিকুর রহিম ২৯ ও তাসকিন আহমেদ ৮ রানে অপরাজিত আছেন।

দ্বিতীয় সেশনে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে শান্তর ২৭ রানের জুটি ভেঙে যায় নাথান লায়নের বলে। তারপর মিচেল স্টার্কের শিকার হয়ে টানা তিন ইনিংসে ডাক মারেন লিটন। তারপর প্যাট কামিন্স টানা দুই ওভারে দুটি উইকেট নেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ১ রান করে অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে ধরা পড়েন। তারপর হাসান শর্ট লেগে ট্র্যাভিস হেডের সহজ ক্যাচ হন ২ রানে। মাঠে নেমে মুশফিকের সঙ্গে দেখেশুনে খেলছিলেন তাইজুল। ২৪ বল খেলে ৭ রান করে তিনি স্টার্কের বলে বোল্ড হন। অজি পেসার ম্যাচে দশম উইকেট পান। 



এর আগে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে করে ৩৯ রান। ২৩ রানে শান্ত ও ৪ রানে মুশফিক অপরাজিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে অলআউট করে ১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নেমেছিল তারা।

কিন্তু শুরুতেই স্টার্কের তোপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে অজি পেসারের কাছে টানা দুটি উইকেট হারায় সফরকারীরা। প্রথম ২ ওভারে ৫ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে স্টার্ক সাদমান ইসলামকে (১) পয়েন্টে মার্নাস লাবুশেনের ক্যাচ বানান। পরের বলে মুমিনুল হকের অফস্টাম্প ভেঙে দেন। ৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে সফরকারীরা।

শান্ত এসে মারমুখী ব্যাটিং করেন। এর মধ্যে নবম ওভারে স্টার্ককে টানা দুটি চার মারেন তিনি। প্রায় একশ স্ট্রাইক রেটে রানের গতি বাড়ান অধিনায়ক। কিন্তু তানজিদ হাসান তামিম বেশিক্ষণ তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি। অষ্টম ওভারে প্যাট কামিন্সের বলে বাউন্ডারির সামনে স্টার্কের ক্যাচ হন তিনি। ৩৪ বলে ৯ রান আসে এক নম্বরে নামা ব্যাটারের কাছ থেকে। ডারউইনে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর টানা দুটি ইনিংসে ডাক মারেন তানজিদ, এবার রানের খাতা খুললেও দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। 

এর আগে টেস্টে বাংলাদেশি পেসার হিসেবে সেরা বোলিং করেছেন শরিফুল ইসলাম। সাত উইকেট নিয়েছেন তিনি, দিয়েছেন ৪৮ রান। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ।

৮ উইকেটে ১৬৫ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। দিনের অষ্টম ওভারে সেট ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিনকে ফেরান শরিফুল। বাংলাদেশ এলবিডব্লিউর আবেদন করেছিল। কিন্তু কুমার ধর্মসেনা আউট না দিলে রিভিউ নেয় তারা। শরিফুলের ইনসুইং ইয়র্কার গ্রিনের পায়ের আঙুলে লেগে তাকে ছিটকে ফেলে দেয়। বলটি ডিপ থার্ডে গড়িয়ে গেলে তারা একটি লেগ বাই রান নেয়। রিভিউয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। ১০৫ বলে ১০ চারে ৬৭ রানে থামেন গ্রিন।

তারপর নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজেলউড ২৪ রানের জুটি গড়ে ব্যবধান বাড়াতে থাকেন। লায়ন ৬২ বলে চার চার ও এক ছয়ে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন। হ্যাজেলউডকে ৬ রানে সাদমান ইসলামের ক্যাচ বানান তাইজুল ইসলাম।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন