© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জামায়াত এমপির পিএসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মামলা

শেয়ার করুন:
জামায়াত এমপির পিএসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মামলা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:২৮ পিএম | ২৪ আগস্ট, ২০২৬
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর আলোচিত ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) আরমান উদ্দিন ও তার ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজি মামলা করেছেন এক প্রবাসী।

রোববার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান কবির জিলান জানান, রোববার আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নিকটস্থ সার্কেল (সাতকানিয়া) অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আরজিতে আরমান উদ্দিনের পাশাপাশি তার ভাই আরিফ উদ্দিন (৩৭), লোহাগাড়ার শওকত আলী (৪২), আদিল (৩২), আনোয়ার (২৮) ও জয়নাল আবেদীন (৩৩)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, বাদীর লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সে চারতলা একটি ভবন রয়েছে। ২০০৬-০৭ সালের দিকে নিজের কেনা জমিতে ভবনটি নির্মাণ করেন তিনি। ভবনের নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং অন্য অংশে বসতঘর ভাড়া দেওয়া হয়। কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ভাই আরিফ উদ্দিন বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে ঘর ও মার্কেট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ভিন্ন এলাকা থেকে এসে তাদের এলাকায় বসবাস করার কারণেও চাঁদা দিতে হবে বলে আসামিরা তাঁকে শাসান।

এরই অংশ হিসেবে গত ৩ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীর কাছে আবারও চাঁদা দাবি করেন। বাদী টাকা দিতে পারবেন না জানালে তার ঘর দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ওই রাতেই আসামিরা আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় বাদীর ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ওই সময় দোকান থেকে ১২টি তিন-পার্টের স্টিলের আলমারি, তিনটি দুই-পার্টের আলমারি, দুটি দুই দরজার আলমারি, ছয়টি চার দরজার ওয়াল শোকেস, দুটি দুই পাশের দরজার ওয়াল শোকেস, আলমারি শিটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। মালামালগুলোর আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা হবে বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর বাইরে দোকানের একটি ক্যাশ টেবিল, যার ভেতরে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল, সেটিও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেন আসামিরা।

ওই ঘটনার সময় বাদী প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে বসেন। পরে গত ২০ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বৈঠকের কথা বলে আসামিরা বাদীর ভবনে আসেন। সেখানে আরিফ উদ্দিন আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে দোকান ও ঘরের দখল ছেড়ে দেবেন না বলে জানান।

বাদী অভিযোগ করে বলেন, আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীকে তার এলাকায় বসবাস করতে হলে তাদের কথামতো চলতে হবে বলে হুমকি দেন। চাঁদা না দিলে আসামি আদিল হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেন। একপর্যায়ে আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, আরমান উদ্দিন ও আদিল বাদীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন।

সর্বশেষ ঘটনার পর বাদী লোহাগাড়া থানায় গিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পুলিশ মামলা নেওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থলেও যায়। পরে মামলা গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে মামলার আবেদন করতে বাধ্য হন।

বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় মামলার বিষয়ে অভিযুক্ত আরমান উদ্দিনের কাছ থেকে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে মামলার বাদী আমির হোসেন বলেন, ৩০ বছর ধরে আমি প্রবাস জীবন কাটাচ্ছি। ১৯৯৯ সালে আমার বাবার কেনা জায়গার ওপর উল্লেখিত মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়। এখন পুরো মার্কেট কি আসামিরা দখল করে নিল? কার কাছে বিচার দেব?

মামলার তদন্ত বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘মামলাটি তদন্তের জন্য এখনো (নথিপত্র) হাতে পাইনি। আমাদের কাছে এলে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থা করব।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আরমান উদ্দিন জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয় করে দেওয়ার কাজ করেন। ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে মারধর এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে আরমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বালু মহাল, উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারী নিয়ন্ত্রণ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ আসে। এই নিয়ে সম্প্রতি দৈনিক দেশের একটি গণমাধ্যময় একটি সংবাদও প্রকাশিত হয়।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির মো. আনোয়ারুল ইসলামকে কয়েক দফা ফোনকল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন