২০২৭ সালে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করবই: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫১ পিএম | ২৬ আগস্ট, ২০২৬
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, ২০২৭ সালে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করবই। যা আমাদের নির্বাচনি কমিটমেন্ট। যার মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের আমাদের কয়েক লক্ষ মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ দুর্দশা লাঘব করবে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে গাওছিয়া কমিটি চিলাহাটি শাখার আয়োজনে ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করবই। যা আমাদের নির্বাচনি কমিটমেন্ট। যার মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের আমাদের কয়েক লক্ষ মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ দুর্দশা লাঘব করবে। আমাদের এই এলাকার মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে কৃষি কাজ করতে পারেন, মাছ চাষ করতে পারেন, হাঁস চাষ করতে পারেন, সেইভাবে আমরা এই এলাকাগুলোর মানুষকে স্বাবলম্বী করে তুলব।
সারের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধীদল কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করে সরকারের ইমেজ নষ্ট করতে চায়। যত সারের ডিলার বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, বিএনপির আমলে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আমরা আগের ডিলার বাতিল না করে শূন্য পদে ডিলার নিয়োগের দ্বিতীয় পরিপত্র দিয়েছি। তৃতীয় পরিপত্রের সময় বাড়িয়ে দিয়ে প্রতি ইউনিয়নে ইউএনওর মাধ্যমে একজন করে ডিলার নিয়োগ দিয়েছি। যার মাধ্যমে জনগণ সহজেই সার পায়।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে নানা কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ১০টি উপজেলার প্রায় ১৪টি ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করেছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে কার্ড পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকা করা হচ্ছে। ৫টি ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে প্রথম ৩টিতে যারা পড়বেন, তাদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আজকে যারা আপনাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন রকম বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমাদের ভোট জোর নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, বলতে চাই সেই সময় তাদের আমির বলেছিলেন যে, কিসের ফ্যামিলি কার্ড, আজকে কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে আমাদের ১০টি উপজেলায় প্রায় ১৪ টি ইউনিয়নে সেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, আমরা প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ইউনিয়নে যারা ফ্যামিলি কার্ডের পাবেন, তাদের তালিকা করছি। কারণ আমরা এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে ৫টি ক্রাইটেরিয়া আছে। সেই ৫টি ক্রাইটেরিয়ার ভিতরে আমরা প্রথম ৩টি ক্রাইটেরিয়া যারা পড়বেন, তাদেরকে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসবো।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনি ইশতাহারে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সরকার গঠন করতে পারলে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। আমাদের এই অঞ্চলে প্রতিনিয়ত পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এক সময়ে ২০ থেকে ২৫ ফুট খুঁড়লেই টিউবওয়েলে পানি পাওয়া যেত। এখন ২০০ ফুট খুঁড়েও অনেক জায়গায় পানি পাওয়া যায় না।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। কিন্তু এসব নদীর অনেকগুলোই এখন আর স্বাভাবিক প্রবাহে নেই। কুড়িগ্রামে দেশের সবচেয়ে বেশি ৫৪ টি নদী এবং পঞ্চগড়ে ৫০ টি নদী রয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চগড়ের বেশ কয়েকটি নদী এখন আর জীবন্ত নেই। বিভিন্ন স্থানে বাঁধ, স্লুইসগেট ও ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশকে মরুকরণের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এসময়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী, ডোমার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ভোগডাবুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মো. রেয়াজুল ইসলাম কালুসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আরআই/টিএ