বিশ্বের বিখ্যাত চলচ্চিত্র উৎসবে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’, গর্বিত বাঁধন
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩২ পিএম | ২৭ আগস্ট, ২০২৬
ভেনিস থেকে টরন্টো, এরপর লন্ডন-বিশ্বের একের পর এক মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা করে নিচ্ছে নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। সিনেমাটির বিশেষ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিনেমাটির এমন যাত্রায় উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি গর্বও প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।
বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, ‘অবশ্যই ভীষণ ভালো লাগছে। এত বড় ও মানসম্মত একটি কাজের অংশ হতে পেরেছি। এরকম একটা কাজের ছোট একটা অংশ আমি হতে পেরেছি, এজন্য খুবই আনন্দিত এবং গর্বিত যে কাজটা এত ভালো ভালো জায়গায় যাচ্ছে।’
সিনেমাটিতে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাঁধন। নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি একটি পার্লারের মালিক হিসেবে এখানে অভিনয় করেছি।’ তার চরিত্রটির পর্দায় উপস্থিতির সময়ও খুব বেশি নয় বলে জানান এই অভিনেত্রী।
তবে চরিত্র ছোট হলেও সিনেমাটির আন্তর্জাতিক যাত্রা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত বাঁধন। তার মতে, ভালো গল্প ও শক্তিশালী নির্মাণই ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’র মূল শক্তি।
এ প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, ‘প্রথমত, গল্পটা ভীষণ ভালো। পরিচালনাও খুব ভালো। পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার একজনই-রুবাইয়াত হোসেন। তিনি অসাধারণ একটা কাজ করেছেন। আর সঙ্গে যারা ছিলেন, তারাও অসাধারণ অভিনয় করেছেন।’
সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা জাইনীন চৌধুরী করিমেরও বিশেষ প্রশংসা করেছেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে যে মেয়েটি মূল চরিত্রে অভিনয় করেছে, জাইনীন চৌধুরী করিম, সে অসাধারণ অভিনয় করেছে।’
‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এ কাজের অভিজ্ঞতাও বেশ ভালো ছিল বলে জানিয়েছেন বাঁধন। তার কথায়, ‘খুবই ভালো অভিজ্ঞতা! একটা অসাধারণ সেটে কাজ করেছি, যেখানে বেশিরভাগ বিভাগের প্রধানই ছিলেন নারী। বেশিরভাগই নারী-এমন একটা সেট তো আমরা চাই।’
শুটিং সেটে শিল্পীদের প্রতি সম্মান ও যত্নের বিষয়টিও আলাদা করে উল্লেখ করেছেন তিনি। বাঁধন বলেন, ‘যেভাবে সেটে শিল্পীদের সম্মান করা হয়েছে, তাদের যত্ন নেওয়া হয়েছে, সেটা আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। রুবাইয়াত ভীষণ ভালো পরিচালক তো অবশ্যই, তিনি ভীষণ ভালো একজন মানুষও।’
দেশের চলচ্চিত্রে নারীপ্রধান গল্পের সংখ্যা এখনও তুলনামূলক কম বলেও মন্তব্য করেছেন বাঁধন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ ক্ষেত্রে পরিবর্তনের আভাস দেখছেন তিনি।
বাঁধনের ভাষায়, ‘আমাদের এখানে নারীপ্রধান গল্পগুলো খুব কম হয়। তবে এখন কিছু পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। আমি দেখছি যে, অনেকেই আসলে নারীকেন্দ্রিক গল্পের দিকে এগিয়ে আসছেন।’
নারীকেন্দ্রিক গল্প নির্মাণে নারী নির্মাতাদের অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘রুবাইয়াত এই কাজটা অনেক বছর ধরে করছেন। তো এরকম যেসব নারী পরিচালক আছেন, তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারা আসলে এভাবে চিন্তা করেছেন। আর পুরুষদের মধ্যেও যারা নারীকেন্দ্রিক গল্প নিয়ে চিন্তা করেন, তাদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ।’
ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে আরও বেশি নারীকে দেখতে চান বাঁধন। বিশেষ করে পরিচালক ও প্রযোজকের মতো দায়িত্বশীল জায়গায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে ভেনিস, টরন্টো ও লন্ডনের মতো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’র যাত্রা বাংলাদেশের সিনেমাকে বিশ্বদর্শকের সামনে তুলে ধরার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। সিনেমাটির এমন সাফল্যে তাই অভিনয়শিল্পী হিসেবে গর্বিত বাঁধনও।
এসএ/টিএ