© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চাঁদের আকাশেও ট্রাফিক নিয়ম, তৈরি হচ্ছে ‘এয়ারপোর্ট’

শেয়ার করুন:
চাঁদের আকাশেও ট্রাফিক নিয়ম, তৈরি হচ্ছে ‘এয়ারপোর্ট’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৩৮ পিএম | ২৭ আগস্ট, ২০২৬
ভাবুন, চাঁদের আকাশে একের পর এক মহাকাশযান ছুটে যাচ্ছে। কেউ নামছে, কেউ ফিরছে পৃথিবীর দিকে, আবার কেউ অপেক্ষা করছে পরবর্তী অভিযানের জন্য। ভবিষ্যতে চাঁদ এমন ব্যস্ত হয়ে উঠতে পারে যে সেখানে মহাকাশযানের চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন হবে অনেকটা বিমানবন্দরের মতো একটি ব্যবস্থা। সেই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই চাঁদের জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার প্রাথমিক নিয়ম তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন মহাকাশ গবেষকেরা।

নাসার জনসন স্পেস সেন্টার, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয় ও পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ গবেষণা সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

আগামী দুই দশকে চাঁদ নভোচারী ও মহাকাশযানের ব্যস্ত কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। নাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করছে। এর অংশ হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে নাসার ‘গেটওয়ে’ মহাকাশ স্টেশনকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে মহাকাশযানের সংখ্যা বাড়লে সংঘর্ষ এড়ানো ও নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে পৃথিবীর বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মতো চাঁদের আশপাশেও বিশেষ ট্র্যাফিক ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

নাসার জনসন স্পেস সেন্টার, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয় ও পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা যৌথভাবে এ গবেষণা করেছেন। গবেষণায় মহাকাশযানের চলাচলের জন্য একটি ফ্লাইট ম্যানুয়াল ও ট্রাফিক নয়মের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। গবেষণাপত্রটির অন্যতম লেখক ডায়ান ডেভিস বলেন, চাঁদে ভবিষ্যতের অভিযানের সাফল্য শুধু রকেট প্রযুক্তির ওপর নয়, মহাকাশযানের চলাচল ব্যবস্থাপনার ওপরও নির্ভর করবে।

গবেষকদের মতে, গেটওয়ে যে বিশেষ কক্ষপথে থাকবে, সেটি ‘নিয়ার রেক্টিলিনিয়ার হালো অরবিট’। পৃথিবী ও চাঁদের অভিকর্ষ বল একসঙ্গে মহাকাশযানকে প্রভাবিত করায় এই কক্ষপথে ভারসাম্য ধরে রাখা বেশ জটিল।

ভবিষ্যতে একই পথে একাধিক মহাকাশযান চলাচল করলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে। তাই গবেষকেরা নির্দিষ্ট কক্ষপথে মহাকাশযানকে সাময়িকভাবে অপেক্ষা করানোর ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন-  অনেকটা বিমান উড্ডয়নের আগে আকাশে অপেক্ষা করার মতো।

কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে গবেষকেরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, ন্যাভিগেশন বা থ্রাস্টারের ত্রুটি সামলানো এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে মহাকাশযান রাখার বিভিন্ন কৌশলও পরীক্ষা করেছেন।

‘সিসলুনার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট : অরবিট মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড লোইটারিং ইন দ্য গেটওয়ে এনআরএইচও’ শিরোনামের গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘অ্যাক্টা অ্যাস্ট্রোনটিকা’ জার্নালে। অর্থাৎ, চাঁদে এখনো কোনো বিমানবন্দর নেই, কিন্তু ভবিষ্যতের সেই মহাকাশবন্দরের ট্রাফিক নিয়ম যেন তৈরি হতে শুরু করেছে পৃথিবী থেকেই।

এসএ/টিএ


মন্তব্য করুন