কেন প্রধানমন্ত্রীর পদ নেননি, সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনীতে উঠে আসছে সেই রহস্য
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৩১ পিএম | ২৮ আগস্ট, ২০২৬
সোনিয়া গান্ধীর একটি আত্মজীবনী এই শরতে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এই বইয়ে তিনি লিখেছেন নেহেরু-গান্ধী রাজনৈতিক পরিবারে বিয়ে করার পর তার জীবনের সুখ ও দুঃখের কথা। এর পাশাপাশি সরকারে নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
প্রকাশনা সংস্থা আলফ্রেড এ নফ গত ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার জানায়, সোনিয়া গান্ধীর বই ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ প্রকাশিত হবে ১০ নভেম্বর।
নফের মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘আমার পরিবার নিয়ে অনেক কিছু লেখা হয়েছে। কিন্তু খুব কম বর্ণনাই তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য, তাদের কাজ, এমনকি তাদের খুবই মানবিক দুর্বলতাগুলো পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বই অনেকভাবেই তাদের মানবিক দিকের প্রতি একটা শ্রদ্ধাঞ্জলি। আমার গল্প পাঠকদের সামনে তুলে ধরবে গত ছয় দশকে আমার প্রিয় এই দেশে আমি যে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন দেখেছি, তার এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি।’
৭৯ বছর বয়সি সোনিয়া গান্ধী ইতালির নাগরিক। ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে পড়াশোনার সময় তার সঙ্গে পরিচয় হয় সহপাঠী ও পরবর্তীতে স্বামী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে। রাজীব গান্ধী ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর নাতি এবং ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ছেলে।
বইটিতে সোনিয়া গান্ধী লিখেছেন কীভাবে ১৯৮৪ সালে তার শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধী হত্যার শিকার হওয়ার পর তার জীবন পুরোপুরি পাল্টে যায়। এরপর রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু সাত বছর পর তিনিও হত্যার শিকার হন। এরপর সোনিয়া গান্ধী নিজেও রাজনীতিতে আসেন। তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলের দীর্ঘতম সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা সভাপতি হন। এসময় দল থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব পেলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ২০১৪ সালে তার দল ক্ষমতা হারায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দলের কাছে।
সোনিয়া গান্ধী বিবৃতিতে বলেন, ‘হৃদয়ভঙ্গ আর স্বজন হারানোর বেদনাই আমাকে রাজনীতির সেই জনজীবনে টেনে এনেছিল। তার আগে পর্যন্ত আমি নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে খুব কঠোরভাবে আগলে রেখেছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিজের জীবন নিয়ে লেখাটা আমার জন্য সহজ ছিল না। এর মানে ছিল নিজেকে খুলে দেওয়া, এমন সব মুহূর্ত ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া, যা আমি সবসময় নিজের মধ্যে গভীরভাবে লুকিয়ে রেখেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘তবে যখন আমি ধীরে ধীরে রাজনীতির জগৎ থেকে সরে এলাম এবং যা দেখেছি তা ফিরে তাকিয়ে দেখলাম, তখন আমার গল্পের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা ভালোবাসা ও আনুগত্যের সুতোটা স্পষ্ট হতে শুরু করল। ইতালির ছোট্ট একটি শহরে আমার শৈশবের সরলতা থেকে শুরু করে ভারতে রাজীব গান্ধীর স্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পুত্রবধূ হিসেবে কাটানো বছরগুলোর জটিলতা পর্যন্ত, সবকিছুই এই সুতোয় বাঁধা।’
পরিবারটি এখনো রাজনীতিতে সক্রিয়। সোনিয়া গান্ধীর দুই সন্তান, বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা, দুজনেই কংগ্রেস দলের হয়ে লোকসভার সদস্য।
এমআই/টিএ