© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শেষ শ্বাস পর্যন্ত লড়ে যাব : শফিকুর রহমান

শেয়ার করুন:
মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শেষ শ্বাস পর্যন্ত লড়ে যাব : শফিকুর রহমান

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:২৬ পিএম | ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো বাতিলের সঙ্গে আপস করবো না এবং আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে মাথা নত করবেন না। দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে তৌফিক চেয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে মাসব্যাপী গণসংযোগ উপলক্ষ্যে আয়োজিত দাওয়াতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশকে আমরা ভালোবাসি। এ দেশের জন্য আল্লাহ যেন শেষ মুহূর্ত, শেষ শ্বাস পর্যন্ত মানুষের অধিকারের পক্ষে লড়ে যাওয়ার তৌফিক দান করেন। কোনো কম্প্রোমাইজ ইনশাআল্লাহ করবো না। কোনো বাতিলের সঙ্গে আপস হবে না। আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে মাথা নত করবো না।

তিনি বলেন, তার জীবন ও মৃত্যু সবকিছুই মহান আল্লাহর হাতে। আল্লাহর দেওয়া জীবন তার কাছে আমানত। সেই আমানত আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, চলার পথে বাধা, সমালোচনা, গালিগালাজ আসবে। এমনকি জীবন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে, বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হারাতে হতে পারে। 

এসবকে আল্লাহর দেওয়া আমানত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই আমানত আল্লাহকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত।

দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইনশাআল্লাহ এ দেশ মুক্ত হবে। ইনশাআল্লাহ এ দেশে কোরআনের আইন কায়েম হবে।

তবে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিজেদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রাখেন তিনি। বলেন, আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠিত হলো, কিন্তু আপনি-আমি তার সঙ্গী হতে পারলাম না– এটা সৌভাগ্যের বিষয় হবে কিনা, সেটিই ভাবতে হবে। তিনি মহান আল্লাহর কাছে সেই সৌভাগ্য দানের জন্য দোয়া করেন।

‘কওমির দ্বীনি খেদমতকে ছোট করে দেখি না’ উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একজন বক্তা কওমি থেকে জামায়াতে ইসলামীতে আসার কথা বলেছেন। তিনি কওমিতেও থাকবেন এবং জামায়াতে ইসলামীতেও থাকবেন।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা কওমিকে আলাদা করে দেখি না। আমরা তাদের দ্বীনি খেদমতকে ছোট মনে করি না। তাদের জন্য অন্তর থেকে দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের খেদমতে আরও বেশি বরকত দান করেন।

সংসদে কওমি সংশ্লিষ্টদের অধিকারের পক্ষে কথা বলাকে নিজেদের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ অবস্থান কোনো ব্যক্তি বা সমাজের একটি অংশকে খুশি করার জন্য নয়, বরং বিবেক ও দায়বোধ থেকে নেওয়া বলেও মন্তব্য করেন।

‘মুখের কষ্টের দাগ কখনো যায় না’ উল্লেখ করে নিজেকে নিয়ে সমালোচনা, গালিগালাজ ও অপমানের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এসব ঘটনায় আত্মতৃপ্তি পাই। এর কারণ হিসেবে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, শ্রেষ্ঠ মানুষকেও সমাজের অবুঝ মানুষ ছেড়ে কথা বলেনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি মূলত মানুষকে ক্ষমা করি ক্ষমা পাওয়ার আশায়। মহান আল্লাহর কাছে নিজের ভুলত্রুটি ক্ষমা পাওয়ার প্রত্যাশা থেকেই তিনি অন্যদের ক্ষমা করেন বলে জানান।

যুব সমাজের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, যৌবন মহান আল্লাহর বিশাল নিয়ামত। দুনিয়ায় আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে সব যুগেই যুবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

তিনি বলেন, বয়স বেশি হওয়া মানেই তারুণ্য শেষ হয়ে যাওয়া নয়। মনের মধ্যে যৌবনের আকাঙ্ক্ষা ও উদ্যম ধারণ করাই প্রকৃত যৌবন। আল্লাহ যতদিন হায়াত দেবেন, ততদিন তারুণ্যের শক্তি, উদ্যম ও চঞ্চলতা দিয়ে কাজ করে যাওয়ার জন্য তিনি দোয়া করেন।

নতুন যারা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা বড় প্রত্যাশা ও বুকভরা আশা নিয়ে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ অর্জন, মানবতা, দেশ ও জাতির জন্য ভালো কিছু করা এবং নিজেদের আখেরাত সুন্দর করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছেন। বাকি জিন্দেগি আমরা একসঙ্গে মহান আল্লাহর জন্য, মানবতার জন্য কাজ করবো।

ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন করে সমাজকে অশান্তির দিকে ঠেলে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি ইসলামের শিক্ষা এবং বাস্তব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তপ্রমাণ করবো।

এর আগে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ড. এএসএম খালিকুজ্জামান। তিনি বলেন, সমাজ পরিচালনা ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ভালো মানুষের রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সমাজের ভালো মানুষগুলো রাজনীতিতে না এলে সেই জায়গা খারাপ লোকজন দখল করবে। আর খারাপ লোকজন দেশের দায়িত্ব নিলে দেশের অবস্থা কী হবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ইসলামভিত্তিক একটি কল্যাণ রাষ্ট্র ও সোনালি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এর মধ্য দিয়ে দুনিয়ায় শান্তি এবং আখেরাতে মুক্তি লাভের লক্ষ্যেই মানুষকে আল্লাহর দিকে, সত্য ও সুন্দরের দিকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

নতুন যারা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তাদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, নিজ নিজ অবস্থান থেকে সংগঠনের সামগ্রিক কার্যক্রমে পর্যায়ক্রমে তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন