© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

নেপালের মাছ খেয়ে অসুস্থ হচ্ছে ভারতীয়রা, সতর্কতা জারি

শেয়ার করুন:
নেপালের মাছ খেয়ে অসুস্থ হচ্ছে ভারতীয়রা, সতর্কতা জারি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৫৮ পিএম | ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নেপালে আকস্মিক বন্যার পর জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছে ভারতের বিহার সরকার। এতে প্রতিবেশী দেশ থেকে বন্যার পানির সঙ্গে রাজ্যের জলাশয়গুলোতে ভেসে আসা অজানা ও অস্বাভাবিক প্রজাতির মাছ খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুগ্ধ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মৎস্য বিভাগ এই সতর্কতা জারি করে। গণ্ডক অববাহিকার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় জলাশয় ও নিচু এলাকায় অস্বাভাবিক ধরনের মাছ পাওয়ার পর এই সতর্কতা দেয়া হয়। খবর এএনআই, টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিহারের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় অপরিচিত ও অস্বাভাবিক ধরনের মাছ পাওয়া গেছে। এসব মাছ খাওয়ার পর কয়েকজন অসুস্থ হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

দপ্তরের মতে, বন্যার পানির কারণে বিভিন্ন পুকুর, হ্রদ ও নদীর মাছ অন্য এলাকায় চলে যায়। পয়ঃবর্জ্য, মৃত প্রাণী এবং অন্যান্য দূষিত পদার্থের সংস্পর্শে দীর্ঘসময় থাকার কারণে এসব মাছ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাক দ্বারা দূষিত হয়ে পড়ে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘বন্যার সময় পুকুর, নদী, হ্রদ ও জলাধার থেকে মাছ বেরিয়ে পানির সঙ্গে দীর্ঘ দূরত্বে চলে যায়। কাদা, পয়ঃবর্জ্য, মৃতদেহ ও অন্যান্য দূষিত পদার্থের সঙ্গে দীর্ঘসময় সংস্পর্শের কারণে এসব মাছ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও রাসায়নিকের দ্বারা আক্রান্ত হয়, ফলে এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়ে। পরিবেশ স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রাকৃতিকভাবে পরিষ্কার ও পরীক্ষিত মাছ আবার পাওয়া না যাওয়া পর্যন্ত বন্যার পানিতে ধরা মাছ খাওয়া উচিত নয়।’

দপ্তরটি নাগরিকদের অজানা বা অস্বাভাবিক দেখতে মাছ খাওয়া এড়িয়ে চলতে, বন্যার পানিতে ধরা মাছ খাবার হিসেবে কেনাবেচা বা ব্যবহার না করতে এবং দপ্তরের যাচাই ছাড়া কোনো অপরিচিত মাছকে খাওয়ার উপযোগী মনে না করতে আহ্বান জানিয়েছে। এ ধরনের মাছ খাওয়ার পর বমি, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এ ধরনের মাছ দেখা গেলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে বা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর জন্যও নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ‘গুজবে কান দেবেন না এবং নিজেদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অজানা মাছ খাওয়া সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন।’

নির্দেশনার পাশাপাশি পশ্চিম চম্পারণের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নূতন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বত্র সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছি এবং জনগণকে জানাচ্ছি যে বন্যার কারণে নেপাল থেকে আসা মাছ অত্যন্ত সংক্রামক এবং এগুলোতে অনেক রোগ বহন করতে পারে। এসব মাছ খেলে সংক্রামক রোগ হতে পারে। এ কারণেই জনগণ যাতে এসব মাছ না খায় বা ব্যবহার না করে, সে জন্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। অন্যথায় রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে বমি, আমাশয় এবং তীব্র পেটব্যথা। আমরা মাছ বিক্রেতাদেরও এ ধরনের মাছ বিক্রি না করার বিষয়ে সচেতন করছি এবং সাধারণ মানুষকে এসব মাছ না খাওয়া, না কেনা এবং ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছি।’

নেপাল পুলিশও নাগরিকদের জন্য একই ধরনের নির্দেশনা জারি করেছে। এতে তাদের বন্যার পানিতে নদীতে ভেসে আসা মাছ ও অন্যান্য নদীজাত খাবার না খাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এফআর/এসএন

মন্তব্য করুন