© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কালচারাল লীগের রোগ অনেক আগেই ডায়াগনসিস করে গেছেন আবুল মনসুর: ফারুকী

শেয়ার করুন:
কালচারাল লীগের রোগ অনেক আগেই ডায়াগনসিস করে গেছেন আবুল মনসুর: ফারুকী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:১৫ পিএম | ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আজকের কালচারাল লীগের রোগ অনেক আগেই ডায়াগনসিস করে গেছেন আবুল মনসুর আহমদ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডির এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি। 

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, আজকের কালচারাল লীগের দিকে যদি তাকান তাহলে দেখবেন আবুল মনসুর আহমদ এদের রোগ সেই কবেই ডায়াগনসিস করে গেছেন। দুইটা উদ্ধৃতি দিয়ে মূল কথায় যাব। 

১.’আমাদের লেখক-সাহিত্যিকরা আজ যেমন আমাদের নিজের ভাষার থনে পশ্চিম বাংলার ভাষাকেই অধিকতর সত্য, শুদ্ধ, শালীন ও সাহিত্যের উপযোগী ভাষা মনে করেন, এককালে মার্কিন লেখক-সাহিত্যিকরাও ইংল্যান্ডের ইংরেজিকে তাই মনে করিতেন। এদেরও মডেল পশ্চিম বঙ্গের কথ্য ভাষা। এরাও মনের দিক হইতে বাস করেন পশ্চিম বঙ্গে, পূর্ব-বাংলায় নয়।’  

২. ‘পূর্ব-বাংলার সাহিত্য স্বাধীনতা লাভ করে নাই। স্বাধীনতা লাভ করে নাই কেন? উত্তর, সাহিত্যিকরা এই নয়া রাষ্ট্রীয় পরিবেশের সহিত নিজেদের এডজাস্ট করিতে পারেন নাই।’  

সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, এখানে সাহিত্যের জায়গায় সংস্কৃতি কথাটা বসাইয়া পড়েন, দেখবেন আমাদের এখনকার সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের আসল কারণটা উনি (আবুল মনসুর আহমদ) বলে গেছেন।   

তিনি বলেন, আমি বা আমরা বহু বছর ধরে ভাষা নিয়া যে কথা এবং লড়াইয়ের মধ্যে ছিলাম এবং আছি- এগুলা উনি (আবুল মনসুর আহমদ) ফোরশ্যাডো কইরা গেছেন। বা সিনেমা বানানোর ক্ষেত্রে যেমন আমাদের এখানে এক সময় কোলকাতা আর্ট হাউজ বা বোম্বেকে (বলিউড) কপি করা হইতো এবং আমরা সেখান থেকে বের হওয়ার সময় যে নানা গালমন্দ খাইলাম সেটার কারনও কিন্তু এই কালচারাল উপনিবেশের দাসত্ব।     

ফারুকী পোস্টে লেখেন, তো কথা হইলো যে সমস্যা মনসুর সাহেব এতো আগে শনাক্ত করে গেলেন, সেই সমস্যার বিরুদ্ধে দেশ স্বাধীন হওয়ার এতো বছর পরেও কেনো আমাদের লড়াই করতে হইলো? 

কারণ হিসেবে ফারুকী বলেন, আমরা উনাদেরকে (আবুল মনসুর আহমদ) সেলিব্রেট করতে পারি নাই। উনার (আবুল মনসুর আহমদ) পরবর্তী প্রজন্ম আধুনিকতার নামে এক ভুয়া রিয়েলিটিকেই প্রগতিশীলতা হিসাবে ধইরা নেন।     

ফারুকী আরও বলেন, ফলে উনার (আবুল মনসুর আহমদ) পরের প্রজন্মের পরের প্রজন্ম হিসাবে নব্বইয়ের পরে আইসা আমরা শিল্পে নিজেদের ভাষা, নিজেদের স্বর, নিজেদের সুর ব্যবহার করা শুরু করছি। তাতে আমাদেরকে ওই প্রগতিবাদীরা নানা ব্রাকেটে ফেলে ছোট করতে চাইছে। কখনো আমাদের নিজেদের গানরে নাম দিছে ফোক, কখনো আমাদের সময়ের রক মিউজিককে নাম দিছে অপসংস্কৃতি, আর কখনো আমাদেরকে বলছে ভাষাসন্ত্রাসী কিংবা আমাদের সিনেমাকে বলছে এগুলা কিছু হয় না। 

তিনি বলেন, কিন্তু সাংস্কৃতিক এই পরিবর্তন এবং বাংলাদেশের বাঙালি যে তার নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় নিয়া মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে এটা তো অবধারিতই ছিল। ফলে আজকের জুলাইয়ের যে রাজনৈতিক চেহারা এটার পেছনের সাংস্কৃতিক কাজ কিন্তু বহু বছর ধরেই চলতেছে। 

সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, আজকে আবুল মনসুর আহমদের জন্মদিনে উনাকে স্মরণ করি। স্মরণ করি সেকুলারিজমের নামে ধর্ম-বিদ্বেষ এবং একই সঙ্গে ধর্মকে রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতিয়ার বানানোর বিরুদ্ধে উনার লেখালেখি। স্মরণ করি উনার দর্শন যেখানে উনি আমাদের ধর্ম পরিচয় ও জাতি পরিচয়কে সাংঘর্ষিক মনে করতেন না।  

ফারুকী বলেন, এবং শেষ করি একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে। যে দেশে যে রকম মানুষকে সেলিব্রেট করা হয়, ওই দেশে ওই রকম মানুষই তৈরি হবে। যে কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘সেলিব্রেটিং বাংলাদেশি লেজেন্ডস’ নামে একটা সিরিজ চালু করে আসছিলাম এবং নির্দেশনা দিয়েছিলাম একটা বছরব্যাপী ক্যালেন্ডার করতে। সেই লিস্টে ক্যাটাগরিক্যালি আবুল মনসুর আহমদের নাম বলছিলাম। যদিও আমি এমন কিছুই আজকে দেখতেছি না।   

পোস্টের শেষে তিনি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কালচারাল স্ট্যাটাস কো-কে চ্যালেঞ্জ করা, নাড়া দেওয়া। কারণ, হেজেমনিক কালচারাল স্ট্যাটাস কো বজায় থাকা অবস্থায় আপনি কোনো বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন আশা করতে পারেন না। মানে ওই পরিবর্তন সাসটেইনেবল হয় না। 

এমআই/টিএ 

মন্তব্য করুন