© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

৯২ বছরে মারা গেলেন নারীবাদী আন্দোলনের বিশ্বখ্যাত নেত্রী গ্লোরিয়া স্টেইনেম

শেয়ার করুন:
৯২ বছরে মারা গেলেন নারীবাদী আন্দোলনের বিশ্বখ্যাত নেত্রী গ্লোরিয়া স্টেইনেম

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৩২ পিএম | ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের নারীবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ, লেখক ও অধিকারকর্মী গ্লোরিয়া স্টেইনেম মারা গেছেন। বুধবার নিউইয়র্ক সিটিতে নিজ বাড়িতে ৯২ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।

নারীর সমঅধিকার, প্রজনন অধিকার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে জীবনের বড় সময় সক্রিয় ছিলেন স্টেইনেম। তিনি নারীবাদী ম্যাগাজিন ‘মিস’ (Ms)-এর সহপ্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন।

মাঝখান দিয়ে সিঁথি করা চুল ও বড় অ্যাভিয়েটর চশমা ছিল তার পরিচিত চেহারার অংশ। কলেজ ক্যাম্পাস, কমিউনিটি সেন্টার, সমাবেশ ও মিছিলে বক্তব্য দিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরেছেন তিনি।

বুধবার তার ফাউন্ডেশনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, অন্যদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং মানুষকে নিজের কথা প্রকাশের সুযোগ দেওয়া ছিল স্টেইনেমের অন্যতম বড় গুণ।

সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন স্টেইনেম। ১৯৬৩ সালে প্লেবয় সাম্রাজ্যের নারীদের জন্য অবমাননাকর কর্মপরিবেশ নিয়ে গোপনে প্রতিবেদন করেন তিনি। পরে ওই অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে আক্ষেপও প্রকাশ করেছিলেন।

১৯৬৯ সালে নারীদের একটি অনুষ্ঠানে গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে বক্তব্য শুনে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। ওই ঘটনাকেই সক্রিয় নারীবাদী আন্দোলনে নিজের যাত্রার সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

২২ বছর বয়সে নিজেও গোপনে অবৈধ গর্ভপাত করিয়েছিলেন স্টেইনেম। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ‘রো বনাম ওয়েড’ রায়ের সুরক্ষা বাতিল করলে নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে সরব হন তিনি। তার ভাষায়, শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণের অধিকার লিঙ্গ বা বর্ণ নির্বিশেষে সমান না হলে গণতন্ত্র পূর্ণতা পায় না।

জনসমক্ষে কথা বলার ভয় ছিল বলেও একসময় জানিয়েছিলেন স্টেইনেম। তবে লেখালেখির পাশাপাশি পরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে ঘুরে নারীর অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

জীবনের শেষ বছরগুলোতেও লেখালেখি ও মানুষের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো অব্যাহত রেখেছিলেন স্টেইনেম। নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতি, কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও পুনর্মিলনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ইস্যুতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। তবে তার আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময়ই ছিল নারীর সমঅধিকার।

এসএ/টিএ




মন্তব্য করুন