হিমাগার, ডেইরি ও পোল্ট্রিতে ব্যাংকগুলো ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে: সংসদে অর্থমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৬:২১ পিএম | ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
দেশে কৃষি খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহতকরণ এবং পল্লী অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে হিমাগার নির্মাণ, ডেইরি ও পোল্ট্রি খাতের জন্য ব্যাংকিং খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আওতায় দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে এই অর্থ ছাড় করা হবে, যা আধুনিক হিমাগার স্থাপন এবং পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্ম প্রতিষ্ঠায় উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তা করা সহজ হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসা. ফরিদা ইয়াসমিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী (আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ) এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে ৬০ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত এই ঋণের আওতায় দেশে পোল্ট্রি ফার্ম, ডেইরি ফার্ম প্রতিষ্ঠা এবং গুদামজাত বা হিমাগারকৃত কৃষি পণ্যের বিপরীতে ব্যাংকগুলো নিয়ম মেনে ঋণ সুবিধা দিচ্ছে।
মন্ত্রী সংসদকে জানান, দেশের উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। গত ৬ জুলাই জারি করা এসিডি-১ সার্কুলার নম্বর-২ এর মাধ্যমে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই তহবিলের আওতায় আধুনিক ও পরিবেশ-বান্ধব হিমাগার নির্মাণসহ শস্য-ফসল, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও সেচ যন্ত্রপাতি খাত এবং আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সার্বিক কৃষি মূল্য শৃঙ্খলে ঋণ দেওয়া চলমান রয়েছে।
এর পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ও পল্লী অঞ্চলে অর্থনৈতিক গতিশীলতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৮ জুন জারি করা এসিডি সার্কুলার নম্বর-০১ এর মাধ্যমে গঠিত ১০ হাজার কোটি টাকার অপর একটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে পল্লী ঋণের অর্থ ছাড় অব্যাহত রয়েছে। সরকার মনে করছে, এই তহবিলের সঠিক ব্যবহার গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
কেএন/টিএ