© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ব্রিকসের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ‘ট্রইকা’ ব্যবস্থা চান নরেন্দ্র মোদি

শেয়ার করুন:
ব্রিকসের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ‘ট্রইকা’ ব্যবস্থা চান নরেন্দ্র মোদি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৪১ পিএম | ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রিকসের সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ‘ট্রইকা’ ব্যবস্থা এবং একটি নিরাপদ ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রতি বছর সভাপতিত্ব বদলালেও এতে জোটটির প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের গতি যেন ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর অনুসরণ ব্যবস্থা প্রয়োজন।

২০২৬ সালে ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত সম্মেলনে মোদি বলেন, আগামী ২০ বছরের জন্য ব্রিকসকে নতুন ও উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি নিয়ে এগোতে হবে। এ জন্য অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালীতেও পরিবর্তন আনা জরুরি।

এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) বলছে, প্রস্তাবিত ‘ট্রইকা’ ব্যবস্থায় আগের, বর্তমান ও পরবর্তী সভাপতিত্বকারী দেশগুলোর সমন্বয়ে কাজ করবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ ও সিদ্ধান্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

পাশাপাশি একটি নিরাপদ ডিজিটাল তথ্যভান্ডারে প্রতিটি সিদ্ধান্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং অগ্রগতির তথ্য সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছেন মোদি।

বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর বিলম্ব না করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভোটাধিকার ও নেতৃত্বের কাঠামোকে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানান।

মোদি বলেন, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় গ্লোবাল সাউথ এখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে পিছিয়ে রয়েছে।

এ বৈষম্য দূর করতে প্রতিনিধিত্ব, কার্যকর সাড়া প্রদান এবং নিয়ম প্রণয়ন—এই তিন ভিত্তির ওপর একটি ১০ দফা সংস্কার রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি। আগামী সম্মেলনে এটি চূড়ান্ত করার আহ্বান জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে, ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তীব্র মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ব্রিকস সদস্যরা যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্যে পৌঁছেছে। শনিবার ভোর ৪টা পর্যন্ত চলা নিবিড় আলোচনার পর এ সমঝোতা হয়। বিশেষ করে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো পরস্পর ভিন্ন অবস্থানের দেশগুলো একই ফোরামে থাকায় ঐকমত্যে পৌঁছানোকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘বিল্ডিং ফর রেজিলিয়েন্স, ইনোভেশন, কো-অপারেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’। ২০ বছর পূর্তির এই সম্মেলনে ব্রিকসকে আরো কার্যকর ও সমাধানমুখী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত।

এমআর/এসএন 

মন্তব্য করুন