© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ব্রিকসের নয়াদিল্লি ঘোষণায় যুদ্ধ ও শুল্কের নিন্দা প্রকাশ

শেয়ার করুন:
ব্রিকসের নয়াদিল্লি ঘোষণায় যুদ্ধ ও শুল্কের নিন্দা প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:১৫ পিএম | ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ গ্রহণ করেছেন ফোরামের নেতারা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জোটের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি এই ঘোষণাটি প্রকাশ করেন।

ঘোষণায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) ‘কাঠামোগত পরিবর্তন’সহ বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে সন্ত্রাসবাদেরও তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘একতরফা যুদ্ধের পদক্ষেপের’ নিন্দা জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক আগ্রাসনের মধ্যে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

সম্মেলনে উপস্থিত নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া জাতিসংঘে, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে, আরও বড় ভূমিকা পালনে ব্রাজিল ও ভারতের আকাঙ্ক্ষার প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ঘোষণায় বলা হয়েছে, ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ক্রমবর্ধমানভাবে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে স্থানীয় মুদ্রায় পরিচালিত হওয়া উচিত।

ঘোষণায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারেরও নির্দিষ্ট আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে আফ্রিকা, এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর আরও বেশি প্রতিনিধিত্বের কথা বলা হয়েছে।

‘আজকের আলোচনায় এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, পরিবর্তনশীল বিশ্বকে পুরোনো প্রতিষ্ঠান দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব নয়; প্রতিনিধিত্ব, কার্যকারিতা ও নিয়ম তৈরির ক্ষেত্রে সংস্কার জরুরি,’ সমাপনী বক্তব্যে বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের প্রযুক্তি এবং সেগুলো পরিচালনার নিয়ম তৈরিতে গ্লোবাল সাউথের সমান অংশগ্রহণ থাকা উচিত—এ বিষয়েও আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।’

মোদি আরও বলেন, ‘আজ গৃহীত নয়াদিল্লি ঘোষণা আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকারের একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। এখন এসব সিদ্ধান্তকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেয়া আমাদের দায়িত্ব ‘

শনিবার সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। ব্রিকস জোটের বিভিন্ন দেশের নেতারা এই সম্মেলনে অংশ নেন।

ব্রিকস প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্ণ হওয়ার সময়ে এবং জোটটি মূল সদস্যদের বাইরে সম্প্রসারিত হওয়ার পর এই ঘোষণা দেয়া হলো।

ব্রিকস বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কার এবং একটি উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, ন্যায্য ও নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংকটপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ডব্লিউটিওর নিয়মের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বাণিজ্য-নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের বিস্তার—যেমন নির্বিচারে শুল্ক ও অশুল্ক ব্যবস্থা বাড়ানো কিংবা পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনের নামে সুরক্ষাবাদী নীতি গ্রহণ—বিশ্ব বাণিজ্য আরও কমিয়ে দিতে, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত করতে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। এতে বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’

ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, ‘একতরফাভাবে শুল্ক ও অশুল্ক ব্যবস্থা বাড়ানোর ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এসব পদক্ষেপ বাণিজ্যকে বিকৃত করে এবং ডব্লিউটিওর নিয়মের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। বাণিজ্যে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন এবং উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের বিষয়ে ডব্লিউটিওর কার্যকারিতা বাড়াতে আমরা একসঙ্গে কাজ করব। পাশাপাশি বাকি থাকা বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং ভারসাম্যপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তে সমর্থন দেওয়া হবে, যা বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে এবং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও কার্যকর করবে।’

ঘোষণায় ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলারও নিন্দা জানানো হয়েছে।

ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘উদ্দেশ্য, স্থান, সময় বা কারা এই কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে—তা বিবেচনা না করে সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে অপরাধমূলক ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে আমরা কঠোরভাবে নিন্দা জানাই। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন। সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও এর বিভিন্ন রূপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি। এর মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসীদের চলাচল, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়াও রয়েছে। আমরা আবারও বলছি, সন্ত্রাসবাদকে কোনো ধর্ম, জাতীয়তা, সভ্যতা বা জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং তাদের সহযোগিতাকারী সবাইকে সংশ্লিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জবাবদিহির আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন