© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিসিএস ক্যাডার চরিত্রের ভুল উপস্থাপনায় সমালোচনায় ফারহান

শেয়ার করুন:
বিসিএস ক্যাডার চরিত্রের ভুল উপস্থাপনায় সমালোচনায় ফারহান

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:০২ পিএম | ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
‘বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও’- হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় এই গানের লাইন থেকেই নাম নেওয়া হয়েছে নাটক ‘পথের সাথীকে চিনে নিও’। জুবায়ের ইবনে বকরের নির্মাণে নাটকটি গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে বাংলাভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে।

মুক্তির পর দর্শকের বেশ সাড়া পেলেও এবার নাটকের গল্পে বিসিএস ক্যাডার চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন অভিনেতা মুশফিক আর ফারহান।

প্রকাশের পর অল্প সময়েই নাটকটির ভিউ ছাড়িয়েছে ৫১ লাখ। ইউটিউবেও এসেছে প্রায় দেড় হাজার মন্তব্য। অনেক দর্শক নাটকটির প্রশংসা করলেও সচেতন দর্শকের একটি অংশ গল্পে সরকারি চাকরি ও বিসিএস ক্যাডার সম্পর্কিত তথ্যের অসঙ্গতি তুলে ধরছেন।

নাটকে মইন খান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মুশফিক আর ফারহান। গল্পের শুরুতে মইনকে আর্থিকভাবে অসচ্ছল তরুণ হিসেবে দেখা যায়। অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে একপর্যায়ে প্রেমিকার সঙ্গে তার সম্পর্ক ভেঙে যায়। পরে মইন বিসিএস ক্যাডার হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব নেন।



আর এখানেই প্রশ্ন তুলছেন দর্শকের একাংশ। তাদের অভিযোগ, নাটকে মইনকে চাকরিতে যোগদানের প্রথম দিনেই ইউএনও হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা বাস্তব প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এছাড়া নাটকে মইনের পদকে ‘অ্যাসোসিয়েট ম্যাজিস্ট্রেট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দর্শকদের দাবি, বাংলাদেশের সরকারি চাকরির কাঠামোয় এ নামে কোনো পদ নেই। নাটকের একটি নামফলকে উত্তরাকে উপজেলা হিসেবে উল্লেখ করা নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা দেখা গেছে।

নাটকের এসব অসঙ্গতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য করছেন দর্শকরা। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, বিসিএস ক্যাডার কিংবা সরকারি প্রশাসনের মতো নির্দিষ্ট কোনো পেশাকে কেন্দ্র করে গল্প নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ন্যূনতম গবেষণা করা হয়েছে কি না।

এক দর্শক মন্তব্য করেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি নাটকে বিসিএস ক্যাডারদের ভুলভাবে উপস্থাপনের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। তার মতে, এসব বিষয় নিয়ে নাটক নির্মাণের আগে নির্মাতাদের আরও তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

আরেক দর্শক ‘এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট’, ‘জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট’-এর পাশাপাশি ‘অ্যাসোসিয়েট ম্যাজিস্ট্রেট’ শব্দ ব্যবহারের সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছেন, নাটক নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে তথ্য যাচাই করা হয় কি না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন আরও বেশ কিছু পোস্ট ও মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। তবে দর্শকদের এসব সমালোচনা নিয়ে এখনো নির্মাতা বা অভিনয়শিল্পীদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

‘পথের সাথীকে চিনে নিও’ নাটকের গল্প লিখেছেন শাহজাহান সৌরভ। এতে মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন অর্চিতা স্পর্শিয়া, জয়নাল জ্যাক, মিলি বাসার, আরকে রেজাসহ অনেকে। নাটকের সংগীত পরিচালনা করেছেন সালাম জিম।

এর আগে আনিসুর রহমান রাজিবের ‘সে প্রথম প্রেম আমার’ নাটকের একটি দৃশ্য নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসাহাসি ও সমালোচনা হয়েছিল। সেখানে গল্পের নায়ক তথা ফারহান আহমেদ জোভানকে বিসিএসের পররাষ্ট্র ক্যাডার হিসেবে পরিচয় করানো হয়। ওই নাটকেও অভিনয় করেছিলেন আইশা খান।

ফলে পরপর নাটকে বিসিএস ক্যাডার চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি এখন দর্শকের আলোচনারও অংশ হয়ে উঠেছে।

এসএ/টিএ



মন্তব্য করুন