কলকাতায় মুসলিম পুলিশ সদস্যদের দাড়ি রাখা নিষিদ্ধ
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২৪ এএম | ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কলকাতা পুলিশের ৪৭ জন মুসলিম সদস্যের দাড়ি রাখার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চাকরিতে বহাল থাকতে হলে তাদের দাড়ি কামাতে হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাহিনীর শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা এবং সদস্যদের চেহারায় সামঞ্জস্য বজায় রাখার যুক্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। এতে পুলিশের প্রচলিত দাড়িসংক্রান্ত পোশাকবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুগ্ম কমিশনার (সদর দপ্তর) স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশিকায় দাড়ি রাখার আবেদন করা ৪৭ জন মুসলিম পুলিশ সদস্যের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি অবিলম্বে জানিয়ে দেওয়া এবং নির্দেশিকাটি যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কলকাতার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তে পুলিশ সদস্যদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও মনঃকষ্ট তৈরি হয়েছে। তাদের অনেকেই ধর্মীয় কারণে দাড়ি রেখেছিলেন। স্থানীয় পত্রিকা ‘পুবের কলম’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন হজ পালন শেষে সুন্নাহ অনুসরণের উদ্দেশ্যে দাড়ি রেখেছিলেন।
এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীতে শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যরা পাগড়ি, বড় চুল ও দাড়ি রেখেই দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেলেও মুসলিম পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে কেন একই ধরনের ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রযোজ্য হবে না।
তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালেও মুসলিম পুলিশ সদস্যদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে সাফল্য পাওয়া সহজ নাও হতে পারে।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের জন্য প্রণীত বিধিমালা বা ‘ম্যানুয়াল’-এ সাধারণভাবে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া পুলিশ সদস্যরা দাড়ি রাখতে পারবেন না। তবে শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যদের ক্ষেত্রে এই বিধির ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের এ ধরনের পোশাক ও সাজসজ্জার বিধির পেছনে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক ও সামরিক ব্যবস্থার প্রভাব রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এক ধরনের অভিন্ন চেহারা, শৃঙ্খলা এবং বাহিনীগত সামঞ্জস্য বজায় রাখাকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। সেই ধারাবাহিকতায় দাড়ি রাখার ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
কলকাতা পুলিশের সর্বশেষ নির্দেশিকায় সেই পুরোনো বিধিই কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। তবে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বাহিনীর শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এফআর/এসএন