এআই কি চাকরি কাড়ছে, নাকি খুলছে নতুন কাজের দুয়ার?
ছবি: সংগৃহীত
০৩:১২ পিএম | ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের সব কাজ কেড়ে নিয়ে বেকারত্ব বাড়িয়ে দেবে—এমন আশঙ্কা বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শ্রমবাজারের চিত্র পর্যালোচনা করে দ্য ইকোনমিস্ট জানাচ্ছে, প্রযুক্তিটি যত চাকরি নষ্ট করছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করছে।
চাকরির বিপর্যয় আসেনি, কর্মসংস্থান বেড়েছে:
গত আগস্টেও যুক্তরাষ্ট্রে অনুমানের চেয়ে বেশি নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে। বেকারত্বের হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.১ শতাংশে। এমনকি তরুণদের কাজের সুযোগও কয়েক দশকের মধ্যে ভালো অবস্থায় রয়েছে।
ধ্বংসের চেয়ে সৃষ্টি বেশি:
২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে এআইয়ের ধাক্কায় সেখানে প্রায় দুই লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। কিন্তু একই সময়ে এআইকে কেন্দ্র করে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় দশ লাখ। অর্থাৎ ছাঁটাইয়ের চেয়ে নিয়োগ পাঁচ গুণ বেশি।
কারিগরি ও কায়িক শ্রমের অভাবনীয় জোয়ার:
এআই পরিচালনার জন্য দরকার বিশাল ডেটা সেন্টার, বিদ্যুৎ ও শক্তিশালী কুলিং সিস্টেম। এসব বানাতে বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হচ্ছে। ফলে ইলেকট্রিশিয়ান, টেকনিশিয়ান, কুলিং বিশেষজ্ঞ ও পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা আকাশচুম্বী। তাঁদের বেতনও বেড়েছে গড়ে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত।
তৈরি হচ্ছে নতুন ঘরানার পদ:
একসময় যাদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না, এমন বহু নতুন পদ এখন করপোরেট দুনিয়ায় নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। যেমন—এআই ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা অ্যানোটেটর এবং ‘হেড অব এআই’। লিংকডইনে এসব পদের বিজ্ঞাপন এক বছরে দ্বিগুণ হয়েছে।
উৎপাদনশীলতা বাড়ায় উল্টো কাজের বৃদ্ধি:
ধারণা করা হয়েছিল আইনি সহকারী (প্যারালেগাল) কিংবা বাজার বিশ্লেষকদের চাকরি চলে যাবে। বাস্তবে দেখা গেছে, এআইয়ের কারণে তাদের কাজের গতি বাড়ায় খরচ কমেছে এবং সেবার চাহিদাও বেড়েছে। ফলে প্যারালেগালদের নিয়োগ উল্টো ১১ শতাংশ বেড়েছে।
ঝুঁকিতে রুটিনমাফিক দাপ্তরিক কাজ:
সব খাতের চিত্র অবশ্য এক নয়। গত দুই বছরে কাস্টমার সার্ভিসের কাজ ১০ শতাংশ এবং সাধারণ প্রশাসনিক বা সেক্রেটারিয়াল কাজ কমেছে ১৫ শতাংশ। কারণ এ ধরনের বাঁধাধরা কাজ এআই সফটওয়্যার খুব সহজেই করে ফেলতে পারছে।
প্রযুক্তির ইতিহাস ও নতুন সম্ভাবনা:
অতীতে কম্পিউটার বা ইন্টারনেট আসার আগেও চাকরি হারানোর প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। কিন্তু পরে সেই প্রযুক্তিই কোটি কোটি নতুন কাজের জন্ম দিয়েছে। এআইয়ের ক্ষেত্রেও একই রূপান্তর দেখা যাচ্ছে। সংক্ষেপে বললে, এআই ঢালাওভাবে কর্মসংস্থান ধ্বংস করছে না; বরং কাজের ধরন আমূল বদলে দিচ্ছে। পুরোনো কিছু রুটিন কাজ হারিয়ে গেলেও সৃষ্টি হচ্ছে নতুন দক্ষতার অগণিত সুযোগ।
লেখক: সাব্বির আহমেদ, মোজো এডিটর-ইন-চিফ
(আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অবলম্বনে)